ব্রাজিল-জার্মানির পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের যে এলিট ক্লাবে ফ্রান্স
মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। এই জয়ে শুধু শেষ চার নিশ্চিত করেনি দিদিয়ের দেশমের দল, বিশ্বকাপের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে বিরল এক কীর্তিরও অংশ হয়ে গেছে তারা।
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্স এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেই সীমিত কয়েকটি দলের কাতারে, যারা ধারাবাহিকভাবে একাধিক আসরে শেষ চারে জায়গা করে নিতে পেরেছে। এর আগে এই নজির ছিল শুধু জার্মানি ও ব্রাজিলের। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফ্রান্সের এই ধারাবাহিক সাফল্যের শুরু ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। সে আসরে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ‘লে ব্লু’। চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালে ওঠে ফরাসিরা। তবে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল দেশমের শিষ্যরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ড এখনো জার্মানির দখলে। ইউরোপের দলটি তিনটি ভিন্ন সময়ে টানা তিন বা তার বেশি বিশ্বকাপে শেষ চারে খেলেছে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৪, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ এবং ২০০২ থেকে ২০১৪ এই তিন পর্বে তারা সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার কীর্তি এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য।
ব্রাজিলও দুই দফায় টানা তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল। প্রথমবার ১৯৭০ থেকে ১৯৭৮ এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে এই সাফল্য পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফ্রান্সের সর্বশেষ এই অর্জন আন্তর্জাতিক ফুটবলে দলটির ধারাবাহিকতারই আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত তিনটি বিশ্বকাপেই শেষ চার নিশ্চিত করে তারা নিজেদের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এখন ফরাসিদের সামনে আরও একটি বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। সেমিফাইনালে জয় পেলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো এবং ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে দিদিয়ের দেশমের দল।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: