[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসি চাইলে পেনাল্টি নেবেন তিনিই, সিদ্ধান্ত তারই: জনালেন কোচ স্কালোনি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নামের পাশে গোলের ঝড়। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের মাঝেও একটি জায়গায় বারবার হতাশ করেছেন তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন দু’বারই।

গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে পাওয়া দুটি স্পট কিকই কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ৬টি আসরে মোট ৮টি পেনাল্টি নিয়ে চারটিতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিসের রেকর্ড। এমন পরিস্থিতিতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেনাল্টির দায়িত্ব কি অন্য কারও হাতে তুলে দেয়া হবে?

তবে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি সুইজারল্যান্ডের ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, মেসি চাইলে পেনাল্টি নেবেন তিনিই।

স্কালোনি বলেন, প্রথমত, লিও যদি পেনাল্টি নিতে চায়, তাহলে সেই নেবে। আমাদের দলে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় আছে, যারা পেনাল্টি নিতে পারে। কিন্তু সে যদি নিতে চায়, তাহলে সেই নেবে।

অর্থাৎ পেনাল্টি নেয়ার মতো বিকল্প ফুটবলার দলে থাকলেও মেসির অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছেন আর্জেন্টিনা কোচ। সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাও অধিনায়কের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

চলতি বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে ব্যর্থ হলেও ওপেন প্লেতে মেসির প্রভাব নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এখন পর্যন্ত ৪১০ মিনিট মাঠে থেকে তিনি তৈরি করেছেন ১৫টি গোলের সুযোগ। নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন ৮ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটিও আসে তার তৈরি করা সুযোগ থেকে। পরে নিজেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান।

গত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে মেসির সামগ্রিক পারফরম্যান্সও অসাধারণ। এই সময়ে তিনি ১৫ গোল, ৪টি অ্যাসিস্ট এবং ৩৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। তাই পেনাল্টিতে ব্যর্থতা তার সামগ্রিক অবদানকে ম্লান করতে পারেনি বলেই মনে করেন স্কালোনি।

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে মেসিকে ডান প্রান্তে খেলতে দেখা গিয়েছিল। সেই কৌশল নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার ভাষ্য, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝেই মেসি কিছুটা ডান দিকে সরে গিয়েছিলেন, কারণ ওই দিক থেকে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণে বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারছিলেন।

স্কালোনি বলেন, সত্যি বলতে, এই সময়ে সে সাধারণত আরও বেশি মাঝমাঠের দিকে থেকে খেলে। তবে আমাদের পুরো দল, বিশেষ করে তার আশপাশে থাকা খেলোয়াড়রা, তার খেলার ধরন অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নেয়। ম্যাচের গতির মধ্যেই এমনটা হয়েছে। দল বুঝতে পেরেছিল যে ওই দিক থেকে সে বেশি বিপদ তৈরি করতে পারছে। বিশেষ করে সে যখন বিপরীত দিকে থাকা সতীর্থদের কাছে পাস দেয়ার সুযোগ পাচ্ছিল।

জুনে ৩৯ বছরে পা দেয়া মেসির শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সন্তুষ্ট স্কালোনি। বয়স বাড়লেও তার কার্যকারিতা একটুও কমেনি বলে মনে করেন তিনি।

স্কালোনি বলেন, লিও এখনো প্রায় আগের মতোই দৌড়ায়। এটা এমন নয় যে সে এখন অনেক বেশি বা অনেক কম দৌড়াচ্ছে। পার্থক্য হলো, এখন সে যা কিছু করে, তা অনেক বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যারা তাকে ভালোভাবে চেনে না, তাদের কাছে বিষয়টি হয়তো অবাক করার মতো। আমি অনেকবার বলেছি, যতদিন সে খেলতে চাইবে, ততদিন সে সেরাদের সেরা থাকবে। আমি এটা তার কোচ হিসেবে বলছি না, আমি বিশ্বাস থেকেই বলছি।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট স্কালোনি। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে দুটি কঠিন ম্যাচ খেলেও দল যেভাবে সুযোগ তৈরি করেছে, তাতে তিনি ইতিবাচক দিকই বেশি দেখছেন।

তিনি বলেন, কেপ ভার্দের বিপক্ষে আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম, যদিও ম্যাচটি জিততে আমাদের ১২০ মিনিট খেলতে হয়েছে। মিশরের বিপক্ষে আমরা আরও ভালো খেলেছি। আমরা বেশি সুযোগ তৈরি করেছি। কিছু বিচ্ছিন্ন ভুল ছিল, কিন্তু ফুটবল এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকে আমি মনে করি দল ভালো অবস্থায় আছে।

এদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেও সেটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন স্কালোনি।

তিনি বলেন, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এ ধরনের কথা অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। ১৯৮৬ সালে যখন দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, তখনও অনেকে একই কথা বলেছিল।

মিশরের বিপক্ষে ভিএআরের সিদ্ধান্তে তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে স্কালোনির মন্তব্য, রেফারিরা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দলগুলোকে নিয়ম প্রয়োগের পদ্ধতি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন এবং ম্যাচে সেই নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে।

তার ভাষায়, রেফারিং নিয়ে সবকিছু খুব পরিষ্কার ছিল। হয়তো কখনো মানুষের মনে হয়, আরও বেশি কিছু দেয়া উচিত ছিল বা কম দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু নিয়ম প্রয়োগের ধরনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক বিষয়কে বড় করে তোলে। সেখান থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে পক্ষপাতিত্ব করা অনেক কঠিন।

বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার রাতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে পেনাল্টির সুযোগ এলে শেষ পর্যন্ত বলটি মেসির পায়েই থাকবে কি না, তার উত্তরও নির্ভর করছে অধিনায়কের নিজের সিদ্ধান্তের ওপর।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর