[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, বেলিংহামের জাদুতে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৭ এএম

মায়ামি স্টেডিয়ামে ইংলিশ ফুটবলের চিরাচরিত লড়াকু মানসিকতার এক দারুণ প্রদর্শনী দেখল বিশ্ব। পিছিয়ে পড়ার লজ্জা থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন—নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লেখাল ইংল্যান্ড। আর এই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার মূল কারিগর জুড বেলিংহাম, জোড়া গোল করে ম্যাচটা নিজের মতো করে রাঙিয়েছেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

ম্যাচের শুরু থেকে ইংল্যান্ড বলের দখল নিয়ে আধিপত্য দেখালেও, ছন্দপতন ঘটে ৩৬ মিনিটে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের গোলে যখন নরওয়ে এগিয়ে যায়, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ইংলিশদের বিদায় হয়তো সময়ের ব্যাপার। কিন্তু থ্রি লায়ন্সরা যে দমে যাওয়ার পাত্র নয়, তার প্রমাণ মেলে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই। দলের দুঃসময়ে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন বেলিংহাম। অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত পাসে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান তিনি, যা ছিল ম্যাচে ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম সংকেত।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি রূপ নেয় স্নায়ুযুদ্ধের লড়াইয়ে। নরওয়ে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চেপে ধরলেও, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অটল ছিল টমাস টুখেলের শিষ্যরা। ৫৭ মিনিটে টরবইয়র্ন হেগেমের গোলে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় নরওয়ে, কিন্তু কর্নার থেকে বল আসার সময় ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে জোরে ধাক্কা দেন আর্লিং হলান্ড। সেই ফাউলের কারণেই মনিটরে দেখে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

এরপর ৭৫ মিনিটে ক্রসবারের কল্যাণে বেঁচে যাওয়ার মতো নাটকীয় ঘটনাগুলো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বারবার হাতবদল করেছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে দুই দলের কেউই গোল করতে না পারায় ম্যাচের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হয় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৩ মিনিটে মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড হাত ফসকে ছেড়ে দিলে, সেই সুযোগটিই কাজে লাগান বেলিংহাম। তার এই দ্বিতীয় গোলটি শুধু ব্যবধানই গড়ে দেয়নি, বরং ইংল্যান্ডকে এনে দেয় এক দারুণ প্রত্যাবর্তনের জয়।

পরাজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে বেলিংহামের জোড়া গোলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড এখন শিরোপার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল। তবে মায়ামির এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে ফিরে পাওয়ার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে ফুটবল ইতিহাসে। অন্যদিকে, ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো ইংল্যান্ডের এই অদম্য প্রত্যাবর্তনের কাছেই।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর