[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

গুরু-শিষ্যর পুনর্মিলনে শিরোপার ফয়সালা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৭ পিএম

এরপর দুজনই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের সফল কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১৮ সালের আগস্টে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন স্কালোনি। তার অধীনে আর্জেন্টিনা ২০২১ সালে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা জেতে। এরপর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় করে আলবিসেলেস্তেরা।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্পেনের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান ৬৫ বছর বয়সী দে লা ফুয়েন্তে। তার অধীনে স্পেন ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে এবং পরের বছর উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালেও পৌঁছে। এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে লা রোহারা।

ফাইনালের আগে একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন দুই কোচ।

স্কালোনি বলেন, ‘তিনি আমার মেন্টর। কোচিং সম্পর্কে যা শিখেছি, তার অনেকটাই তার কাছ থেকে। আর এখন আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ। কাতার বিশ্বকাপের পরও আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। তিনি স্পেনকে দারুণভাবে গড়ে তুলেছেন, এজন্য আমি তার জন্য খুবই আনন্দিত।’

স্কালোনির সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কও বেশ গভীর। খেলোয়াড়ি জীবনের বড় একটি সময় তিনি স্পেনে কাটিয়েছেন। তার স্ত্রী এলিসা মনতেরো স্প্যানিশ এবং দুই সন্তানকে নিয়ে পরিবারটির বসবাস মায়োর্কায়। তবে ফাইনালে আবেগের কোনো জায়গা রাখতে চান না আর্জেন্টাইন কোচ।

স্কালোনি বলেন, ‘সবাই জানে আমি স্পেনে থাকি এবং আমার পরিবারও স্প্যানিশ। কিন্তু আমি দুঃখিত, কারণ ফাইনালে আমি মি. দে লা ফুয়েন্তেকে হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। একজন কোচ এবং মানুষ হিসেবে তার প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।’

দে লা ফুয়েন্তেও তার সাবেক ছাত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘লিওনেলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আর্জেন্টিনা দলের হয়ে সে সব বড় শিরোপাই জিতেছে। কোচ হিসেবে তার দর্শনের সঙ্গে আমি একমত এবং ব্যক্তি হিসেবেও তাকে ভীষণ সম্মান করি। একজন অসাধারণ মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্কালোনি ছিল অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র। শেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। আজ সে বিশ্বসেরাদের একজন কোচ। এটা আমার জন্য গর্বের বিষয়। তবে সবচেয়ে বড় কথা, সে আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে এখনও দারুণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে।’

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে তাই শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবল বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে এক অনন্য গুরু-শিষ্যের আবেগঘন পুনর্মিলন।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর