[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

২২ গোলে বিশ্বরেকর্ড, তবু এমবাপ্পের কণ্ঠে ফাইনাল না খেলতে পারার আক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৭ এএম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড এখন কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ২২ গোল নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। কিন্তু ব্যক্তিগত এই অনন্য অর্জনেও খুশি নন তিনি। তার কাছে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে না পারা।

শনিবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স। পরাজয়ের ম্যাচেই দুটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ওঠেন।

চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এমবাপ্পে। এখন পর্যন্ত ১০ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনিই শীর্ষে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি তাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতবেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। ২০২২ বিশ্বকাপেও আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের ব্যর্থতাই বেশি পোড়াচ্ছে এমবাপ্পেকে।

ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে আমি বরং আগামীকালের (আজ) ফাইনালে খেলতে চাইতাম।"

বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ গোল করে এমবাপ্পে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার কীর্তিও গড়েছেন। এক আসরে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৩, ১৯৫৮) এবং হাঙ্গেরির সান্দর কোকসিস (১১, ১৯৫৪)। জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারও ১৯৭০ বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছিলেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। তবে বিরতির পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করে তারা। এমবাপ্পের জোড়া গোলের পাশাপাশি ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বলেও গোল করেন। একসময় ব্যবধান নেমে আসে এক গোলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে হেরে যায় ফরাসিরা।

ম্যাচ শেষে নিজের দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে এমবাপ্পে বলেন, "দুই অর্ধ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের সেরাটা খেলতে পারিনি। আমরা যেন হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।"

এই ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ। তাই তার বিদায়টা জয় দিয়ে রাঙাতে চেয়েছিলেন বলেও জানান এমবাপ্পে।

তিনি বলেন, "শেষ পর্যন্ত আমরা জিততে পারিনি, যা কোচের জন্য খুবই দুঃখজনক। প্রথমার্ধ দেখে মনে হতে পারে আমরা তাকে হতাশ করেছি, কিন্তু সেটি মোটেও সত্য নয়। এই একটি ম্যাচ কখনোই দিদিয়ের দেশমের অসাধারণ অবদানকে ম্লান করতে পারবে না।"

দেশমের অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হওয়ার পর এবার সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় 'লে ব্লু'দের।

বিশ্বরেকর্ড, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান, একের পর এক ব্যক্তিগত অর্জন—সবকিছুর পরও এমবাপ্পের কথায় স্পষ্ট, একজন ফুটবলারের কাছে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্নই সবচেয়ে বড়।

 
 
 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর