স্কটল্যান্ডের দেখানো পথেই কি স্পেনকে থামাবে আর্জেন্টিনা?
বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই কৌশল, ধৈর্য আর মুহূর্তের সঠিক সিদ্ধান্তের লড়াই। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রোববার মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেনকে কীভাবে থামানো যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন লিওনেল স্কালোনির সামনে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সেই উত্তর লুকিয়ে আছে তিন বছর আগের একটি ম্যাচে। ২০২৩ সালের ইউরো বাছাইপর্বে হ্যাম্পডেন পার্কে স্কটল্যান্ড ২-০ গোলে হারিয়েছিল স্পেনকে। স্কট ম্যাকটমিনের জোড়া গোলে পাওয়া সেই জয় ছিল স্পেনের বিপক্ষে একটি কৌশলগত মাস্টারক্লাস।
যদিও বর্তমান স্পেন দল অনেক বেশি পরিণত এবং টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে, তবুও স্কটল্যান্ডের সেই ম্যাচ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা নিতে পারে আর্জেন্টিনা।
বেছে বেছে প্রেসিং
স্পেনের বিপক্ষে পুরো মাঠজুড়ে হাই-প্রেসিং সব সময় কার্যকর হয় না। সেমিফাইনালে ফ্রান্স সেই ভুল করেছিল এবং স্পেন সহজেই তাদের প্রেস ভেঙে বেরিয়ে আসে।
স্কটল্যান্ড বরং ৫-৪-১ ছকে খেলেছিল। তারা নির্দিষ্ট জায়গায় প্রেস করেছে এবং রদ্রির দিকে সহজে বল যেতে দেয়নি। আর্জেন্টিনাও যদি পুরো মাঠে চাপ না দিয়ে মাঝমাঠের পাসিং লেন বন্ধ রাখতে পারে, তাহলে স্পেনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে।
রদ্রিকে নিষ্ক্রিয় রাখা
স্পেনের খেলার কেন্দ্রবিন্দু রদ্রি। মাঝমাঠ থেকে তিনিই আক্রমণ গড়ে তোলেন।
স্কটল্যান্ড তাকে শারীরিক চাপে রেখে বারবার পেছনে খেলতে বাধ্য করেছিল। আর্জেন্টিনার রদ্রিগো দে পল কিংবা এনজো ফার্নান্দেজ একই দায়িত্ব পালন করতে পারলে স্পেনের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যেতে পারে।
মাঝখান বন্ধ রাখতে হবে
স্পেন সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বক্সের সামনে ছোট ছোট পাস, কাটব্যাক এবং হাফ-স্পেস ব্যবহার করে।
স্কটল্যান্ড সেই জায়গাগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল এবং স্পেনকে উইং দিয়ে ক্রস তুলতে বাধ্য করেছিল। আর্জেন্টিনাও যদি নিজেদের রক্ষণভাগের কেন্দ্র জমাট রাখতে পারে, তাহলে স্পেনের আক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ফুলব্যাকদের পেছনের জায়গা কাজে লাগানো
স্পেনের দুই ফুলব্যাকই নিয়মিত আক্রমণে উঠে আসেন। ফলে তাদের পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়।
স্কটল্যান্ডের দুটি গোলই এসেছিল সেই জায়গা ব্যবহার করে। মেসি যদি মাঝমাঠে নেমে বল ধরে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের টেনে আনতে পারেন, তাহলে দ্বিতীয় সারি থেকে জুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বা অন্য মিডফিল্ডারদের দৌড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন
স্কটল্যান্ড সেদিন শারীরিক লড়াইয়ে স্পেনকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তবে আর্জেন্টিনার জন্য ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
স্পেনের মতো পাসিং-নির্ভর দলের বিপক্ষে অপ্রয়োজনীয় ফাউল বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ হারানো বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই লড়াকু মানসিকতার পাশাপাশি শৃঙ্খলাও হবে বড় অস্ত্র।
স্কটল্যান্ডের ছক, তবে আর্জেন্টিনার ঢং
২০২৬ সালের আর্জেন্টিনা নিঃসন্দেহে ২০২৩ সালের স্কটল্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিভাবান দল। লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, স্কালোনির কৌশল এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ তাদের বড় শক্তি।
তাই স্কটল্যান্ডের পরিকল্পনা হুবহু নকল করার প্রয়োজন নেই। বরং সেই ম্যাচের মূল শিক্ষাগুলো নিজেদের খেলার ধরনে প্রয়োগ করতে পারলে স্পেনের টানা অপরাজিত যাত্রা থামানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এখন অপেক্ষা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের। দেখা যাক, আর্জেন্টিনা কি স্কটল্যান্ডের দেখানো কৌশলের অনুপ্রেরণায় স্পেনকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারে, নাকি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরাই শেষ হাসি হাসবে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: