ফাইনালের আগের দিন আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করলেন মেসি, 'এল আলটিমো ট্যাঙ্গো' ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন
বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র এক দিন আগে লিওনেল মেসির একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে যেন আবেগে ভেসেছে ফুটবল বিশ্ব।
ক্যারিয়ারের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিলেও এবার প্রকাশ করা ভিডিওটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচের আগে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে তার দুই দশকের যাত্রাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া এই ভিডিও কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ভিডিওটির সঙ্গে মেসি লিখেছেন, "শুরু থেকেই তোমরা আমার সঙ্গে ছিলে। চল, আর একবার! এই বিশ্বকাপে আমি খেলছি আমার 'এল আলটিমো ট্যাঙ্গো' বুট পরে!"
ক্যাপশনটি ছোট হলেও এর প্রতিটি শব্দ যেন বিশেষ বার্তা বহন করছে। কারণ, রোববার (১৯ জুলাই) স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালকে অনেকেই মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন।
পোস্টটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অ্যাডিডাসের বিশেষ সংস্করণের এফ৫০ 'এল আলটিমো ট্যাঙ্গো' বুট। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস জানিয়েছে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির সম্ভাব্য শেষ উপস্থিতিকে স্মরণ করতেই তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ বুট।
এই বিশেষ সংগ্রহটি উদযাপন করছে মেসি ও অ্যাডিডাসের প্রায় দুই দশকের পথচলা। যার শুরু ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। তখন মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
"শুরু থেকেই তোমরা আমার সঙ্গে ছিলে"— এই বাক্যটি মূলত অ্যাডিডাসের প্রতি মেসির কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই এই ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাটিয়েছেন তিনি। তাই ২০০৬ সালের প্রথম বিশ্বকাপ আর ২০২৬ সালের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে একই গল্পে বেঁধে এক অনন্য আবেগ তৈরি করেছে প্রচারণাটি।
বুটের নকশাতেই লুকিয়ে আছে গল্প
'এল আলটিমো ট্যাঙ্গো' এফ৫০ বুটের প্রধান রং সাদা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি নীল এবং সোনালি রঙের ছোঁয়া। জাতীয় পতাকার রঙের পাশাপাশি দেশের হয়ে মেসির অর্জিত গৌরবের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে এই রঙগুলো।
বুটটির নকশায় রয়েছে ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির পরা এফ৫০.৬ টিইউএনআইটি বুটের অনুপ্রেরণা। সেই বিশ্বকাপেই বিশ্ব ফুটবল প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ করেছিল এক কিশোর প্রতিভার উত্থান।
অ্যাডিডাস ইচ্ছাকৃতভাবেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু এবং সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়কে একই গল্পে যুক্ত করেছে। এমনকি 'এল আলটিমো ট্যাঙ্গো' নামটিরও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। এটি যেমন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ট্যাঙ্গো নৃত্যের প্রতি ইঙ্গিত করে, তেমনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষবারের মতো এক অনন্য পরিবেশনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ভিডিওটি শুধু চলতি বিশ্বকাপের মুহূর্ত নিয়েই তৈরি নয়। বরং ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ফাইনালের দ্বারপ্রান্ত পর্যন্ত মেসির দীর্ঘ যাত্রার নানা স্মৃতি এতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় ২০ বছরের এই পথচলাকে এক সুতোয় গেঁথে ভিডিওটি যেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের গল্প বলেছে।
ভিডিওটির নির্মাণও অ্যাডিডাসের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ। যেখানে গত দুই দশকে মেসি ও অ্যাডিডাসের যৌথ যাত্রা, সাফল্য এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তকে উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন।
তবে মেসির জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব আরও গভীর। আর্জেন্টিনা জিততে পারলে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়েই শেষ হতে পারে তার বিশ্বকাপ অধ্যায়। আর সেই কারণেই ফাইনালের আগের দিন প্রকাশিত এই ভিডিওকে অনেকেই বিদায়ের আগের এক আবেগঘন বার্তা হিসেবে দেখছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি ভিউ, লাইক ও মন্তব্যে ভরে যায় পোস্টটি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকেরা ভিডিওটিকে মেসির বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ আলোচনায় এসেছে তার 'এল আলটিমো ট্যাঙ্গো' বুটও, যা ইতোমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতীকী স্মারক হয়ে উঠেছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: