মেসিহীন আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধ শেষে এগিয়ে বারকোর গোলে
বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র একদিন বাকি। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে সমর্থকদের উত্তেজনা এখন চরমে। প্রিয় দল, সম্ভাব্য একাদশ, তারকাদের ফর্ম সবকিছু নিয়েই চলছে আলোচনা। আর সেই আবহেই নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও এর ব্যতিক্রম নয়। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি অনুপস্থিতি শুরুর একাদশে ছিলেন না লিওনেল মেসি। কিন্তু মেসিকে ছাড়াও যে আর্জেন্টিনা কতটা গোছানো ও কার্যকর দল, তার প্রমাণ মিলেছে প্রথমার্ধেই।
প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছে ভ্যালেন্টিন বারকোর পা থেকে। মাত্র অষ্টম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেয়া তার দুর্দান্ত শট আইসল্যান্ডের জালে জড়ায়।
যদিও ম্যাচের শুরুটা আর্জেন্টিনার জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছিল। নিকো পাজের একটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ নষ্ট হওয়ার পর পাল্টা আক্রমণে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় আইসল্যান্ড। এলার্টসন একেবারে কাছ থেকে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন। তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সেই ধাক্কা সামলে দ্রুতই নিজেদের ছন্দে ফেরে আর্জেন্টিনা। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ সাজাতে থাকে স্কালোনির শিষ্যরা। রক্ষণে নেমে আসা আইসল্যান্ড মূলত পাল্টা আক্রমণের আশায় থাকলেও আর্জেন্টিনার উচ্চ প্রেসিং তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি।
গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার আক্রমণে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ছিলেন নিকো পাজ। মাঝমাঠে তার গতিশীলতা এবং বল বিতরণ বারবার আইসল্যান্ডের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছে। একবার লোপেসকে দারুণ একটি পাস দিলেও তা থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি। পরে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকেও ভাগ্য খোলেনি তরুণ এই মিডফিল্ডারের। তার নেয়া শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
মাঝে কিছু সময় আইসল্যান্ড ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ড্যানিয়েল লিও গ্রেতারসনকে লক্ষ্য করে কয়েকটি লম্বা বল এবং থ্রো-ইন থেকে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত। গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলিও খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েননি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে সিমিওনের নেয়া শট সহজেই রুখে দেন আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক। এরপর নিকো পাসও বক্সের ভেতর থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার প্রচেষ্টাও প্রতিহত হয়।
সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে বলের দখল, আক্রমণের সংখ্যা এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। মেসিহীন একাদশ নিয়েও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খেলায় দেখা গেছে আত্মবিশ্বাস ও পরিপক্বতার ছাপ। তবে আইসল্যান্ড শুরুতেই যে সতর্কবার্তা দিয়েছিল, তাতে দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনির দলের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: