অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নেপথ্যে রূপকথার তিন নায়ক
ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, এটি কখনো কখনো জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করার এক অনন্য মঞ্চ।
রোববার (১৪ জুন) ২০২৬ বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের দুর্দান্ত জয়টি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, ছিল এক মহাকাব্যিক মানবিক গল্প। আফ্রিকার যুদ্ধবিগ্রহ ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা তিন শরণার্থী—মোহাম্মদ তুরে, নেস্তরি ইরানকুন্ডা এবং আওয়ার মাবিল এখন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল দলের হৃদস্পন্দন।
অস্ট্রেলিয়ার ৫ লাখ আফ্রিকান অভিবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে আজ বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন এই ত্রয়ী। কেনিয়ার শরণার্থী শিবিরে ১০ বছর কাটানো অভিজ্ঞ আওয়ার মাবিলের কাঁধে চড়েই বিশ্বকাপে অভিষেক হলো ২০ বছর বয়সী নেস্তরি ইরানকুন্ডা ও ২২ বছর বয়সী মোহাম্মদ তুরের। বুরুন্ডিয়ান বাবা-মায়ের সন্তান ইরানকুন্ডা পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন তানজানিয়ার শরণার্থী শিবিরে। সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় আজ তিনি এক ইতিহাসের নায়ক।
ম্যাচের শুরু থেকেই তুরস্কের আক্রমণে কোণঠাসা ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ২৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গেম চেঞ্জার হয়ে ওঠেন ইরানকুন্ডা। মাঝমাঠ থেকে ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে তুরস্কের রক্ষণভাগকে ধুলোয় মিশিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মিডফিল্ডার কনর মেটকাফের ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক জাদুকরী শট তুরস্কের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার।
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীদের আবাসন ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে যখন নানামুখী বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই এই জয় যেন এক বড় উত্তর। লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বেঁচে গিনির শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা স্ট্রাইকার মোহাম্মদ তুরে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “অস্ট্রেলিয়া আমাদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। দেশের হয়ে অবদান রাখাই হলো সেই ঋণ শোধ করার সেরা উপায়।”
তুরস্ক বধের মাধ্যমে ইরানকুন্ডা-তুরেরা কেবল নকআউট পর্বের পথই সুগম করলেন না, বরং বিশ্বকে আবারও প্রমাণ করে দিলেন যে, সুযোগ পেলে শরণার্থীরাও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। এই তিন তরুণ এখন কেবল ফুটবলার নন, অস্ট্রেলিয়ার কোটি মানুষের স্বপ্নসারথি।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: