স্পেনের বিপক্ষে মেসির ‘বিদায়ী ম্যাচ’ আয়োজনের প্রস্তাব
লিওনেল মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে আরেকটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব উঠেছে। এই প্রস্তাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি। তার মতে, মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে সম্মান জানাতে স্পেনের বিপক্ষে এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করা যেতে পারে।
দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ফিনালিসিমায়। তবে ২০২৪ সালের পর তৈরি হওয়া নানা জটিলতায় সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই ম্যাচকে ঘিরে মেসি ও লামিনে ইয়ামালের দ্বৈরথের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে।
আর্জেন্টিনার রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ওই ম্যাচ দিয়ে কেন মেসিকে বড় বিদায়ী অভ্যর্থনা দেওয়া যায় না?’
তবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। ফলে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে এখনো চলছে আলোচনা।
বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনে ফিরে জাতীয় দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি। ইয়ামাল, রদ্রিদের বিশ্বকাপ জয়কে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সুশৃঙ্খল পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই স্পেন বিশ্বকাপের শিরোপা অর্জন করেছে।
রাষ্ট্রদূতের মতে, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার একটি বিশেষ ম্যাচের আলাদা প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। একদিকে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন—এই দুই দলের লড়াই ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে এই দুই দলের মধ্যে এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হবে। আর সেটি যদি মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আয়োজন করা যায়, তাহলে আর্জেন্টাইন মহাতারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে সম্মান জানানোর জন্য সেটি হতে পারে একটি স্মরণীয় আয়োজন।
এদিকে স্পেনের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন জোয়াকিন মারিয়া। তার জন্মভূমি স্পেন হলেও কর্মসূত্রে তিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনায় দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বিশ্বকাপজুড়ে দুই দলের খেলাই তাকে আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করতে হয়েছে। তবে ফাইনালে এসে আবেগের জায়গা থেকে এক পক্ষকে বেছে নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও কথা বলেছেন এই কূটনীতিক। ছোটবেলা থেকেই বার্সেলোনার সমর্থক হওয়ায় মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুস্কেটস, কার্লেস পুয়োল, জেরার্ড পিকে ও জাভির নেতৃত্বাধীন দলের দীর্ঘ আধিপত্যের কথা স্মরণ করেন তিনি। তার মতে, সেই সময়ের সাফল্যই রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের ‘ক্ষত’ তৈরি করেছিল।
সব মিলিয়ে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও তার সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত যদি আর্জেন্টিনা-স্পেনের একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজন করা হয় এবং সেখানে মেসি মাঠে নামেন, তাহলে সেটি হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন বিদায়ী মুহূর্ত।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: