বিশ্বকাপ শেষ, শুরু নতুন অধ্যায়: আর্জেন্টিনার সামনে কী অপেক্ষা করছে?
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন চূর্ণ হয়েছে আর্জেন্টিনার।
তবে বিশ্বকাপ শেষ হলেও থেমে নেই আলবিসেলেস্তেদের পথচলা। সামনে রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ, বিশ্বকাপ বাছাই, কোপা আমেরিকা ২০২৮ এবং অনিশ্চয়তায় থাকা ফিনালিসিমা।
বিশ্বকাপের পরপরই যা অপেক্ষা করছে
বিশ্বকাপ-পরবর্তী নতুন চক্রের (১৯ জুলাই ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জুনের শুরু পর্যন্ত) আন্তর্জাতিক সূচি ইতোমধ্যে নির্ধারণ করেছে ফিফা। প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডো অনুষ্ঠিত হবে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে। এ সময়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) দুটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করবে। তবে প্রতিপক্ষ, ভেন্যু ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এরপর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর হবে বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডো। ওই সময়ও আর্জেন্টিনা কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলবে না। প্রীতি ম্যাচ দিয়েই ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্বকাপ বাছাই
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ২০৩০ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর আয়োজক হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। এ কারণে তিন দেশই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএফ) সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন জানিয়েছেন, সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হলেও তিন দেশই দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে অংশ নেবে।
কনমেবল এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব শুরু হতে পারে ২০২৭ সালের মার্চে। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আগেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করলেও প্রচলিত লিগ পদ্ধতিতেই বাছাই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে পারে।
কোপা আমেরিকা ২০২৮, পরবর্তী বড় লক্ষ্য
আগামী দুই বছরে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হতে পারে কোপা আমেরিকা ২০২৮। টুর্নামেন্টটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের গুঞ্জন রয়েছে।
এই আসরটি লিওনেল মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার প্রথম কোপা আমেরিকা হতে পারে। ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আর্জেন্টিনার সামনে শুরু হতে পারে নতুন এক অধ্যায়।
ফিনালিসিমা কি আদৌ হবে?
কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি লড়াই ফিনালিসিমা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
এ বছর দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। ২০২২ সালে যে মাঠে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেখানেই আবার দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নের লড়াই আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় ১৯ মার্চের নির্ধারিত ম্যাচটি বাতিল করা হয়।
পরে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন নতুন ভেন্যু ও সময় নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ম্যাচটি আর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
এখন দেখার বিষয়, ২০২৮ সালের আগে ফিনালিসিমা আয়োজন করা যায় কি না। কারণ এরপর আবার কোপা আমেরিকা ও ইউরো অনুষ্ঠিত হবে এবং দুই প্রতিযোগিতার নতুন চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে আর্জেন্টিনার সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। মেসির ভবিষ্যৎ, স্কালোনির সিদ্ধান্ত এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উত্থান—সবকিছু মিলিয়ে আলবিসেলেস্তেদের আগামী পথচলা হতে যাচ্ছে বেশ আকর্ষণীয়। বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও নতুন একটি দল গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা এখন তাকিয়ে থাকবে ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকার দিকে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: