আলভারেজকে পেতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বার্সেলোনা
২০২৬ বিশ্বকাপের পর নতুন মৌসুমের দল গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে কাতালান ক্লাবটির প্রধান লক্ষ্য অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ। তবে এই তারকাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যেতে চায় না বার্সেলোনা। এ কারণেই সম্ভাব্য এই দলবদলের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করে দিয়েছে ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলভারেজকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বার্সেলোনা। এই সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে নিয়ে আর আলোচনা না বাড়িয়ে বিকল্প খেলোয়াড়ের দিকে মনোযোগ দেবে হানসি ফ্লিকের দল।
তবে আলভারেজকে দলে আনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের অনড় অবস্থান। ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী মিগেল অ্যাঞ্জেল গিল মারিন আগেই স্পষ্ট করেছেন, আলভারেজ বিক্রির জন্য নন। এমনকি ১০০, ১৫০ কিংবা ২০০ মিলিয়ন ইউরোর মতো বিশাল প্রস্তাব এলেও ক্লাবের সিদ্ধান্ত বদলাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এ অবস্থায় বার্সেলোনা মনে করছে, দলবদলের দরজা খুলতে হলে আলভারেজকেই অ্যাথলেটিকো ছাড়ার ইচ্ছা আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করতে হবে। সম্প্রতি অবশ্য আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, পরিবর্তন কখনো কখনো সবার জন্যই ভালো হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলবদল প্রসঙ্গে তার বক্তব্য অনেকটাই সতর্ক ও সংযত।
বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও ক্লাবের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা স্পষ্ট করেছেন। তার মতে, নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার বাইরে গিয়ে কোনো চুক্তিতে যাওয়ার সুযোগ নেই ক্লাবটির। তাই জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায় বার্সেলোনা।
আলভারেজকে দলে আনা সম্ভব না হলে বিকল্প হিসেবে কয়েকজন ফরোয়ার্ডকে বিবেচনায় রেখেছে ক্লাবটি। সেই তালিকায় রয়েছেন ফরাসি তরুণ এলি জুনিয়র ক্রুপি এবং স্লোভেনিয়ার স্ট্রাইকার বেঞ্জামিন সেসকো। আলভারেজের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তাদের মধ্যে কাউকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে বার্সা।
তবে নতুন কোনো স্ট্রাইকারকে দলে ভেড়ানো সম্ভব না হলেও স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের দিয়েই আক্রমণভাগের সমস্যা সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ফ্লিকের। সে ক্ষেত্রে দানি ওলমোকে ফলস নাইন হিসেবে খেলানোর পাশাপাশি ফেরান তোরেসকেও কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগে ব্যবহার করা হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় লামিনে ইয়ামালকে আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে বার্সেলোনা। ক্লাবটির ধারণা, বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়ামালও একসময় উইং থেকে ভেতরে এসে আক্রমণভাগের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন—অনেকটা লিওনেল মেসির মতো।
সব মিলিয়ে আলভারেজকে ঘিরে বার্সেলোনার অবস্থান এখন বেশ পরিষ্কার। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যদি অ্যাথলেটিকোর সঙ্গে সমঝোতা করে আর্জেন্টাইন তারকাকে ন্যু ক্যাম্পে আনা যায়, সেটিই হবে ক্লাবটির সবচেয়ে বড় সাফল্য। আর তা সম্ভব না হলে সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমে পড়বে কাতালান ক্লাবটি।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: