গার্দিওলাকে কোচ করতে চায় ইতালি, তবে এখনই রাজি নন স্প্যানিশ কোচ
টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্বে পরিবর্তন আনতে মরিয়া ইতালি। নতুন কোচের সন্ধানে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে উঠে এসেছে পেপ গার্দিওলার নাম। তবে আপাতত ইতালির প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই ম্যানচেস্টার সিটি, বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই কোচ।
ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্দিওলাকে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব দিতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। কিন্তু দুই পক্ষের কথোপকথন নাকি এক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। কারণ, গত মে মাসে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়ার পর অন্তত এক বছর ফুটবল থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন গার্দিওলা।
শুধু ইতালি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি দেশও গার্দিওলাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিবারই একই উত্তর দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ—এই মুহূর্তে তিনি বিশ্রাম নিতে চান।
গার্দিওলার সিদ্ধান্ত জানার পরও অবশ্য কয়েকটি দেশ তাকে পেতে অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। কারণ, আগামী এক বছরে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট না থাকায় জাতীয় দলের নতুন কোচকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যদিও গার্দিওলার প্রতি আগ্রহী অন্য দেশগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে নেদারল্যান্ডসের নাম আলোচনায় এসেছে। বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায়ের পর রোনাল্ড কোম্যান দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর থেকেই ডাচ ফুটবল ফেডারেশন গার্দিওলাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছে বলে খবর।
ইংল্যান্ডের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরেই গার্দিওলার নাম জড়িয়ে আছে। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পরও ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থমাস টুখেলকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আপাতত ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে ভবিষ্যতে গার্দিওলাকে ইংল্যান্ডের ডাগআউটে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নতুন কোচ খুঁজতে দেরি হচ্ছে ইতালির
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে জেন্নারো গাত্তুসো পদত্যাগ করার পর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে রয়েছে ইতালি। তবে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের।
এর আগে নতুন সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়েছে। গত ২২ জুন জিওভান্নি মালাগো এফআইজিসির সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ইতালির সাবেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনিকে জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর করা হয়। পাশাপাশি ব্রাজিলের সাবেক তারকা লিওনার্দোকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন কোচ বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা।
গার্দিওলার পাশাপাশি ইতালির কোচ হওয়ার দৌড়ে আন্দ্রে পিরলোর নামও রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ কোচ আন্তোনিও কন্তে ও রবার্তো মানচিনিই সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপে ব্যর্থতা, ইউরোতে সাফল্য
একসময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত ইতালি সর্বশেষ ২০০৬ সালে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর থেকেই বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক অবনতি দেখা যায়। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় আজ্জুরিরা।
এরপর ২০১৮, ২০২২ ও সর্বশেষ ২০২৬—টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বেই জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এমন হতাশাজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই এবার একজন অভিজ্ঞ ও প্রমাণিত কোচকে দায়িত্ব দিতে চায় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ইতালির সাম্প্রতিক সাফল্য উল্লেখযোগ্য। রবার্তো মানচিনির অধীনে ২০২১ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজ্জুরিরা। এবার সেই সাফল্যের ধারায় ফেরার পাশাপাশি বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে আসার লক্ষ্যেও নতুন কোচের সন্ধানে রয়েছে ইতালি।
গার্দিওলা এখনই দায়িত্ব নিতে রাজি না হলেও তাকে পাওয়ার আশা ছাড়ছে না ইতালি। তবে শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ এই কোচ বিশ্রামের সিদ্ধান্ত বদলান কি না, নাকি অন্য কোনো অভিজ্ঞ কোচের হাতেই জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেয় এফআইজিসি—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: