বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা, চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে জনস্রোত
বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফিরেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। নিউইয়র্ক থেকে স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছান লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসসহ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা।
বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় উৎসবের আবহ। পরে রাজপ্রাসাদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা গ্রহণের পর ছাদখোলা বাসে রাজধানীজুড়ে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের সদস্যরা। দিনের শেষভাগে মাদ্রিদের ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়োৎসবের মূল আয়োজন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশের মাটিতে ফেরাটা স্পেনের ফুটবলারদের জন্য ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বিমানবন্দরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একনজর দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি থাকলেও সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিতে ভোলেননি ইয়ামাল, রদ্রি ও তাঁদের সতীর্থরা।
আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির শুরু হয় মাদ্রিদের সারসুয়েলা প্রাসাদে। সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে স্বাগত জানান স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজকন্যা লিওনোর ও সোফিয়া। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ট্রফিও ঘুরে দেখেন রাজপরিবারের সদস্যরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজা ফেলিপে বলেন, জাতীয় দল যখন মাঠে নামে, তখন পুরো স্পেনই তাদের সঙ্গে খেলে। এই শিরোপা কেবল একটি ফুটবল দলের অর্জন নয়, এটি গোটা দেশের গর্ব। ফাইনালে দলের পারফরম্যান্স এবং বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত প্রত্যেক স্প্যানিশ নাগরিকের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজপ্রাসাদ থেকে পুরো দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন শুধু ফুটবলারদের নয়, স্পেনের প্রতিটি মানুষের। জাতীয় দলের নিবেদন, কঠোর পরিশ্রম ও অসাধারণ পারফরম্যান্সই দেশকে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব এনে দিয়েছে।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। মোনক্লোয়া প্রাসাদ থেকে ছাদখোলা বাসে রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লাখো সমর্থক করতালি, পতাকা ও গানের মাধ্যমে প্রিয় ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। বাসের ওপর থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেস ও তাঁদের সতীর্থরা।
প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ার। সেখানেই আয়োজন করা হয় বিজয় উৎসবের মূল অনুষ্ঠান। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা, আলোকসজ্জা ও ডিজের তালে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খেলোয়াড়রাও মঞ্চে উঠে সমর্থকদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে উদযাপনে অংশ নেন।
উৎসবমঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, এই দলের কোচ হতে পারা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের একটি। তিনি বলেন, এই সাফল্যের পেছনে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, দলের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। দুই বছর আগে বলা নিজের একটি কথাও তিনি আবার স্মরণ করিয়ে দেন—‘আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী।’
স্পেনের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সিবেলেস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০ লাখ সমর্থক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানাতে জড়ো হন। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে দিনভর রাজধানী মাদ্রিদ ছিল উৎসবের নগরী। তবে স্পেনে উদযাপন এখানেই শেষ নয়। দেশের বিভিন্ন শহরেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সম্মানে পৃথক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: