[email protected] শুক্রবার, ২৪শে জুলাই ২০২৬
৮ই শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপের পরই ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক, ফিফা সভাপতির পদত্যাগ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৭ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ, শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন এবং ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের আকার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর।

ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস এবং ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার। ইতালির সংবাদপত্র ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেবাসকে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমার মতে, হ্যাঁ। আমি মনে করি, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে।’

তবে ইনফান্তিনো শিগগিরই পদ ছাড়বেন বলে মনে করেন না তেবাস। তার মতে, ফিফার সদস্য দেশগুলোর বড় একটি অংশ এখনো ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে। এ কারণে আগামী নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীও পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইনফান্তিনো অবশ্য এরই মধ্যে ২০২৭-৩১ মেয়াদের জন্য আবারও ফিফা সভাপতির নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোয় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বালোগানকে ঘিরে বিতর্ক

ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে দেওয়া শাস্তি। বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখার পর নিয়ম অনুযায়ী এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার কথা ছিল তার। কিন্তু পরে সেই শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলার সুযোগ পান তিনি।

এই সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন—এমন অভিযোগও ওঠে। তেবাস ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র আরও এগিয়ে গেলে এই সিদ্ধান্ত ফিফাকে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে ফেলতে পারত।

বালোগান-কাণ্ডে ফিফার সমালোচনা করেছে উয়েফাও। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, টুর্নামেন্ট চলাকালে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার নিয়মে এ ধরনের ব্যতিক্রম তৈরি করা উচিত হয়নি। তাদের মতে, সিদ্ধান্তটি নজিরবিহীন এবং এর যথাযথ ব্যাখ্যাও নেই।

তবে ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলামূলক কমিটি স্বাধীনভাবে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্লাটারের কড়া বার্তা

ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে সরব হয়েছেন ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, খেলাকে কখনোই রাজনীতির ছায়ায় ঢেকে যেতে দেওয়া উচিত নয়। সমর্থক, খেলোয়াড় ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর প্রতি ফুটবলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

ব্লাটারের মতে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ফুটবলকে তার মূল জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তার এই মন্তব্যও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

৬৪ দলের বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও আপত্তি

বিশ্বকাপের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাব্য প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন তেবাস।

তার দাবি, ফিফা বারবার বিশ্বকাপের আকার বাড়ানোর মাধ্যমে ঘরোয়া লিগ ও ক্লাব ফুটবলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এতে সারা বছর ধরে চলা ক্লাব ফুটবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ সফলভাবে শেষ হলেও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক থামছে না। বালোগানকে ঘিরে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ এবং বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা—বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্ন উঠছে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে। ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ইনফান্তিনোকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর