[email protected] শুক্রবার, ২৪শে জুলাই ২০২৬
৮ই শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠিয়ে সবচেয়ে বেশি আয় ম্যানচেস্টার সিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৭ এএম

বিশ্বকাপ শেষ। এবার ক্লাব ফুটবলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খেলোয়াড়েরা। তবে বিশ্বকাপ চলাকালে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা ফুটবলারদের কারণে এরই মধ্যে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে তাদের ক্লাবগুলো। ফিফার ‘ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম’ (CBP) থেকে বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড় ছাড়ার বিনিময়ে বিভিন্ন ক্লাব পেয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটির আয় প্রায় ৪৪ লাখ ডলার।

সিটির এই আয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তাদের ছয় খেলোয়াড়। রদ্রি, রায়ান শেরকি, মার্ক গেহি ও জন স্টোনসসহ ছয় ফুটবলার বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত খেলায় সিটির প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।

আয়ের তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটির পরেই রয়েছে বার্সেলোনা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে সিটির পর সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে আর্সেনাল।

ফিফার তহবিলে এবার রেকর্ড অর্থ

বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠানো ক্লাবগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে ফিফার ‘ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম’ চালু রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এই তহবিল আগের দুই আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

এবারের আসরে তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে বরাদ্দ করা ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

এই অর্থের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোর খেলোয়াড়দের ছাড়ার জন্য। আর বাছাইপর্বে খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়া ক্লাবগুলোর জন্য রাখা হয়েছে আরও ১০ কোটি ডলার।

২৫ মে থেকে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একজন খেলোয়াড়ের জন্য গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডলার করে পেয়েছে সংশ্লিষ্ট ক্লাব।

সবচেয়ে বেশি লাভ প্রিমিয়ার লিগের

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় সরবরাহ করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। প্রায় ১৩ শতাংশ খেলোয়াড় এই লিগের ক্লাবগুলো থেকে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। ফলে ফিফার ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম থেকে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো পেয়েছে মোট ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

এই অঙ্ক বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলোর পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের প্রায় দ্বিগুণ।

তবে শুধু বড় ক্লাবই নয়, বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠিয়ে লাভবান হয়েছে তুলনামূলক ছোট ক্লাবও। ইংল্যান্ডের ক্রিস্টাল প্যালেস পেয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ডলার, আর সান্ডারল্যান্ডের আয় প্রায় ২২ লাখ ডলার।

সবচেয়ে বড় চমক এসেছে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ স্তরের ক্লাব ব্রেইনট্রি টাউনের কাছ থেকে। নিউজিল্যান্ডের তারকা টমি স্মিথকে বিশ্বকাপে পাঠানোর সুবাদে ক্লাবটি পেয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর বিশাল বেতন কাঠামোর তুলনায় এই অর্থ খুব বড় অঙ্ক নয়। তবে ছোট ও নিম্নস্তরের ক্লাবগুলোর জন্য ফিফার এই আর্থিক সহায়তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠানোর মাধ্যমে জাতীয় দলের সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাবগুলোর জন্যও যে আর্থিক সুবিধার সুযোগ তৈরি হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর প্রকাশিত পরিসংখ্যানে সেটিই আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর