[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য হয়েও সোহাগের দাপট!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৪ পিএম

৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পাল্টেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গণের চেহারা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর খ্যাত অনেক সংগঠকরাই বাদ পড়েছেন বিভিন্ন ফেডারেশন থেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটিতে থাকা অনেক সংগঠকই এখন ক্রীড়াঙ্গণ থেকে বিতাড়িত। কিন্তু ব্যতিক্রম কেবল কাবাডি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে ফ্যাসিস্ট হাবিবুর রহমানের আনুকূল্য পেয়ে কাবাডিতে যুগ্ম সম্পাদক বনে যান সোহাগ। আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটিতে ঠাই পান। তালিকায় প্রায় দুই’শ সদস্যের একজন ছিলেন তিনি। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপির সময়েও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সোহাগ। শুধু তাই নয়, তার মামলা এবং হুমকিতে বিপর্যস্ত দেশের কাবাডি অঙ্গণ।

ফেডারেশনের বর্তমান ও সাবেক কমিটির কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব এখন স্পষ্ট। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের কর্মকর্তাদের সামলাতে নাকি নানা হুমকি দিয়ে আসছেন ফেডরেশনের সাধারন সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ। অন্যদিকে নিজের উপর হামলার অভিযোগও করেছেন সোহাগ। সেই মোতাবেক গত ২২ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানায় ১১ জন কাবাডি সংগঠক, খেলোয়াড় ও রেফারিদের নামে সাধারন ডায়েরি করেন সোহাগ। এ নিয়ে তোলপাড় কাবাডিতে।

জিডিতে অভিযুক্ত কাবাডি সংগঠক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘২০২৩ সালে চার বছরের জন্য গঠিত আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য (তালিকার ১১০ নম্বর) ছিলেন সোহাগ। তাই দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হলেও প্রতিপক্ষ মনে করে আমিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন সোহাগ। মূলত কাবাডি থেকে আমাদেরকে দূরে রাখতেই এই কৌশল তার।’ তিনি যোগ করেন, ‘কাবাডিতে এখন ওয়ানম্যান শো চলছে। নিজস্ব লোক দিয়ে ফেডারেশন চালাচ্ছেন সোহাগ। কোন জবাবদিহিতা নেই। কিভাবে অর্থ খরচা করছেন, তার কোন হিসাব কাউকে দিচ্ছেন না তিনি। এসব বলতে গিয়েই তার রোষানলের শিকার হয়েছি আমরা।’

আরেক সংগঠক দেলোয়াড় হোসেন বলেন, ‘যারাই সোহাগের বিতর্কিত কর্মকা-ের সমালোচনা করছে, তাদেরকেই নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন সোহাগ। মূলত পুলিশের মহাপরির্দক ফেডারেশনের সভাপতি হওয়ায় এই সুযোগটি নিচ্ছেন তিনি। যা ক্রীড়াঙ্গণে কোনভাবেই কাম্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দোসর হয়েও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান বিনএপি সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে সখ্যতা হড়ে তুলে আমাদেরকে হয়রানী করছেন সোহাগ। এমন চিহ্নিত আওয়মী দোসররা কিভাবে এখনো ক্রীড়াঙ্গণে টিকে রয়েছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর