[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শুটিংয়ের দুর্দশায় হতাশ স্বর্ণকণ্যা তৃপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৫ ১৪:০৮ পিএম

১৯৯০ সালে অকল‌্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল দলগতে আবদুস সাত্তার ও আতিকুর রহমান স্বর্ণ ও ৫০ ফ্রি পিস্তল পেয়ারে এই দুজন ব্রোঞ্জ জেতেন। ২০০২ সালে ম্যানচেষ্টার কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে স্বর্ণ পদক এনে দেন আসিফ হোসেন খান। ২০১৪ গ্লাসগো কমওনয়েলথ গেমসে আবদুল্লাহেল বাকী, চার বছর পর গোল্ডকোস্ট কমওনয়েলথ গেমসে সেই বাকী ও শাকিল আহমেদ দুটি রুপা এনে দেন।


কাধে রাইফেল নিয়ে নিশানা ভেদ করেছেন। আন্তর্জাতিক আসরে দেশের জন্য কুড়িয়ে এনেছে স্বর্ণপদক। সোনালী হাসিতে উদ্ভাসিত করেছেন জাতিকে। অথচ আজ শুটিংয়ের দুর্দশা দেখে মুষরে পড়েছেন স্বর্ণকণ্যা তৃপ্তি কবির। তার কথা, ‘কি হচ্ছে শুটিংয়ে। আমরা তো শুটিংয়ের এই দশা দেখতে চাইনি। এটা কখনো কাম্য নয়। যে শুটিং দেশকে এত এত পদক এনে দিয়েছে, আজ তার বেহাল দশা। এভাবে চলতে থাকলে দেশের শুটিং আস্তাখুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’
১৯৯০ সালে অকল‌্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল দলগতে আবদুস সাত্তার ও আতিকুর রহমান স্বর্ণ ও ৫০ ফ্রি পিস্তল পেয়ারে এই দুজন ব্রোঞ্জ জেতেন। ২০০২ সালে ম্যানচেষ্টার কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে স্বর্ণ পদক এনে দেন আসিফ হোসেন খান। ২০১৪ গ্লাসগো কমওনয়েলথ গেমসে আবদুল্লাহেল বাকী, চার বছর পর গোল্ডকোস্ট কমওনয়েলথ গেমসে সেই বাকী ও শাকিল আহমেদ দুটি রুপা এনে দেন।

২০১০ সাউথ এশিয়ান গেমসে দুটি স্বর্ণপদক আসে শুটিং থেকেই। যার একটি মেয়েদের দলগত ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে। এই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তৃপ্তি। বাকি দু’জন শারমিন আক্তার (রতœা) ও সাদিয়া আক্তার। এর মধ্যে সাদিয়া পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। শারমিন আক্তার (রতœা) ফেডারেশনের কোচ ছিলেন। তবে শুটিংয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি আসার পর কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এক সময় শুটিং রেঞ্জে নিশানাভেদ করা তৃপ্তিও এখন পুরোদস্তুর কোচ। শুটিং ফেডারেশন ও সেনাবাহিনী শুটিং দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শুটার তৃপ্তির ঘরভর্তি পদক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে লড়াই করে জিতেছেন এই পদকগুলো। ২০০৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু তৃপ্তির। সেবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার পয়েন্ট ১৭৭ বোরে রুপা ও ৫০ মিটার পয়েন্ট ২২ রাইফেল ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দেশের গ-ি পেরিয়ে ইন্দো-বাংলাদেশ বাংলা গেমস, সাউথ এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এসএ গেমসেও জিতেছেন স্বর্ণপদক। লন্ডন অলিম্পিক গেমসের শুটিং দলের ক্যাম্পেও ছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ২৩টি পদক জিতেছেন এই শুটার।

 

সম্প্রতি শুটিংয়ের নাজেহাল অবস্থা। গত বছর ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে দেশের শুটিং। রাইফেল ও গুলি তালাবদ্ধ। পৃষ্ঠপোষকতা নেই, তাই খেলাও নেই। দক্ষিণ এশীয় গেমসের জন্য ক্যাম্প শুরু হলেও তা বন্ধ হয়ে যায় হঠাৎ করেই। নতুন কমিটি এলেও কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শারমিন আক্তার। ইরানী কোচ জায়ের রেজাই চলে গেছেন নিজ দেশে।

নিশানাহীন হয়ে পড়া দেশের শুটিং নিয়ে দু:খ করে তৃপ্তি বলেন, ‘দেশের শুটিংয়ের গৌরব আর ভুলুণ্ঠিত। স্বর্ণপদক জিতে জাতিকে আমরা যে আনন্দ উপহার দিয়েছিলাম, সেই শুটিং এখন দিশেহারা। শুটিংয়ের এই দশা দেখে হৃদয় ভরাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। খুব শিগগিরই এই অবস্থা থেকে উত্তরন না ঘটাতে পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে অশনি সংকেত।’

১০ বছর শুটিং রেঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যেন হাঁপিয়ে ওঠেন তৃপ্তি। তাই ২০১৬ সালে খেলা ছেড়ে চলে যান বিশ্রামে। একাকিত্বে সময় কাটিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেন ভিন্নরূপে। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০২১ সালে রেঞ্জে ফিরে আসেন তৃপ্তি। শুটার হিসাবে নয়, শুটার তৈরির কারিগর হিসাবে। শুটিং ফেডারেশনের কোচ হিসাবে কাজ শুরু করেন। এক বছর পরেই আর্মি শুটিং অ্যাসোসিয়েশনের কোচের পদে যোগ দেন। তিন বছর আর্মিতে কোচিং করালেও গত এক বছর ধরে পুরোদস্তুর ঘনকন্যা তৃপ্তি। ও হ্যাঁ, বলে রাখা ভালো, শুটিং রেঞ্জে নিশানাভেদ করা তৃপ্তি ব্যক্তিগত জীবনেও হৃদয়ভেদ করেছেন সাবেক তারকা শাটলার রাসেল কবির সুমনের। দুই ভুবনের দুই ক্রীড়াবিদ এখন যুগলবন্দি। চুটিয়ে সংসার করছেন একসময়কার স্বর্ণকন্যা শুটার তৃপ্তি।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর