দেশের শুটিং এখন শূণ্যের কোঠায়- আলেয়া ফেরদৌসী
অ্যাডহক কমিটির সাধারন সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসীর মতে, ‘দেশের শুটিং এখন জিরো লেবেলে চলে গেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরন করতে অনেক সময় লাগবে।’ যদি তাই হয়, তাহলে জানুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসে কি হবে? সেই উত্তরও জানা নেই এই সাধারন সম্পাদকের, ‘জানি না কি করতে পারবে ছেলে মেয়েরা।’
কাজাখস্তানের শিমকেন্টে সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে চমক দেখিয়েছে পরশী দেশ ভারত। ৫০টি স্বর্ণ, ২৬টি রুপা ও ২৩টি ব্রোঞ্জসহ ৯৯টি পদক জিতে ১৭টি দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। দু’বছর আগেও দক্ষিণ কোরিয়ার এই টুর্নামেন্টে ১৯টি পদক জিতে তিন নম্বরে ছিল। অথচ সেই এশিয়ান শুটিংয়ে পদকের দেখাই পান না লাল সবুজের শুটাররা। আর এবারের আসরে তো অংশই নেয়নি বাংলাদেশ।
বৈশ্বিক আসরের মধ্যে কমনওলেথ ও সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসেই পদক রয়েছে বাংলাদেশের। বাকি আসরগুলোতে লাল সবুজের শুটাররা অংশ নেন কেবল অলিম্পিক গেমসের ওয়াইল্ড কার্ডের জন্যই। দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সাফল্যের নিড়িখে শুটিংয়েও এগিয়ে ছিল। অথচ আজ সেই শুটিংয়ের কি দুর্দশা।
অ্যাডহক কমিটির সাধারন সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসীর মতে, ‘দেশের শুটিং এখন জিরো লেবেলে চলে গেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরন করতে অনেক সময় লাগবে।’ যদি তাই হয়, তাহলে জানুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসে কি হবে? সেই উত্তরও জানা নেই এই সাধারন সম্পাদকের, ‘জানি না কি করতে পারবে ছেলে মেয়েরা।’ এশিয়ান শুটিংয়ে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তার কথা, ‘কেন এবার অংশই নিতে পারিনি আমরা, তা বিগত কমিটি জবাব দিতে পারবে। কারন গত ১৫- ১৬ বছর তো উনারাই ছিলেন।’
গত বছর ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে জড়িয়ে পড়েছিল শুটিং ফেডারেশনের নামও। গুঞ্জন ছিল, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে দমনের উদ্দেশ্যে করা গুলি নাকি শুটিং ফেডারেশনের স্টোর থেকেই নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য দীর্ঘ দিন নাকি ফেডারেশনের স্টোর তালাবদ্ধ ছিল। যেখানে ছিল শুটারদের গুলি, পিস্তল ও রাইফেল। তবে সম্প্রতি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্টোর রুম খুলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে শুটারদের এসএ গেমসের ক্যাম্প। আলেয়া ফেরদৌসীর কথায়, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ জনকে নিয়ে এসএ গেমসের ক্যাম্প শুরু করেছি।
সাধারন সম্পাদক আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশিয় কোন কোচ তৈরী করা হয়নি। আজ যদি আমাদের পর্যাপ্ত দেশিয় কোচ থাকত তাহলে একজন বিদেশি কোচ এনে অনুশীলন দিতে পারলেই হতো। তাহলে এতো বেগ পেতে হতো না।’ তিনি বলতে থাকেন, ‘দেশের শুটিং ক্লাবগুলো জরাজীর্ন অবস্থায় আছে। তাদের পারফরম্যান্স তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। এভাবে আমরা এসএ গেমসে স্বর্ণ আশা করতে পারিরিন।’
বিদেশি কোচের বিষয়ে আলেয়া ফেরদৌসের কথা, ‘শুটিংয়ে দুজন ইরানী কোচ ছিলেন। একজনকে ৫ আগষ্টের পর বিমানে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকজন চলে গেছেন এমনিতেই। তাছাড়া একজন বিদেশি কোচকে আনতে হলে মাসিক আট থেকে দশ হাজার মার্কিন ডলার প্রয়োজন। অনুশীলন প্রোগ্রাম আর শুটারদের মাসিক খরচাতেইতো আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের আর্থিক সমস্যা রয়েছে। ট্রাস্টের ফান্ডে হাত দিতে পারি না। এইসব সমস্যায় আমরা আছি।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: