স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনিয়ার অজানা গল্প
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক উপহার দিয়েছে কেপ ভার্দে। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ০-০ গোলে আটকে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি।
আর এই ঐতিহাসিক ফলাফলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া ভোজিনিয়াকে সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য এক নজরে দেখে নেয়া যাক,
* জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস, যিনি ফুটবল বিশ্বে ভোজিনিয়া নামে পরিচিত, ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। শৈশবে খাটো গড়নের কারণে অনেক দলে সুযোগ না পেলেও হার মানেননি তিনি। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ তিনি কেপ ভার্দের জাতীয় দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষকদের একজন।
* তার বাবা চেয়েছিলেন তার নাম হোক জর্জ ভালডানো। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেই নাম অনুমোদন করেনি। পরে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার জোসিমারের নাম অনুসারে তার নাম রাখা হয় জোসিমার।
* ভোজিনিয়া ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। অনেক সময় ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নই তাকে চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বিভিন্ন দেশে খেলেছেন। বাটুক এফসি (কাবো ভার্দে), সিএস মাইন্ডেলেন্স, প্রগ্রেসো ডো সম্বিজাঙ্গা (অ্যাঙ্গোলা), জিমব্রু চিসিনাউ (মলদোভা). গিল ভিসেন্টে এফসি, এইএল লিমাসল। বর্তমানে জিডি শ্যাভসের হয়ে খেলছেন।
* ১৩ বছর ধরে কেপ ভার্দের প্রধান গোলরক্ষক তিনি। দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে আসতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তার যাত্রা শুরু ২০১২ সালে। তারপর থেকে প্রায় এক যুগ ধরে কেপ ভার্দের গোলপোস্টের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম তিনি। প্রায় ৯০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার।
* ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন ভোজিনিয়া। কোনো দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার এখন তিনি।
* স্পেনের বিপক্ষে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স শুধু কেপ ভার্দের জন্য একটি মূল্যবান পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং তাকে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং ফুটবলপ্রেমীরা তাকে ‘বিশ্বকাপের নতুন নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করেন। ম্যাচ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ছিল মোটে ৫৬ হাজার। আর সোমবার রাতে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই সংখ্যা গিয়ে ঠেকল ৫ মিলিয়নে (৫০ লাখ)!
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: