মেটলাইফে ফরাসি রূপকথা: জিরুকে ছাড়িয়ে এমবাপ্পের ইতিহাস, চূর্ণ সেনেগাল
প্রথমার্ধের চরম হতাশা, চেনা ছন্দের অভাব আর সেনেগালের একের পর এক আক্রমণ–সব মিলিয়ে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর গল্পটা ফরাসিদের পক্ষে ছিল না একেবারেই।
কিন্তু বিরতির পর খোলস ছেড়ে বেরোল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শীর্ষ ফুটবলাররা। কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া জোড়া গোল আর বদলি নামা ব্র্যাডলি বারকোলার চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের দিনে ফরাসি ফুটবলের নতুন ইতিহাসও গড়েছেন দলপতি এমবাপ্পে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে উসমান দেম্বেলে আর এমবাপ্পের মেলবন্ধনের অভাবে ফ্রান্সের খেলায় ছিল স্পষ্ট ঘাটতি। উল্টো ম্যাচের ২৫ মিনিটেই পিছিয়ে পড়তে পারত তারা। সেনেগালের ডিওফের অসাধারণ এক থ্রু পাস ধরে নিকোলাস জ্যাকসনের নেয়া বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেইগনানের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। অল্পের জন্য বেঁচে যায় ফ্রান্স। ৪০ মিনিটে এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সাদিও মানে দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলে গোলশূন্য ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে উপামেকানো এবং ৫৪ মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিশ্চিত গোলের সুযোগ সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডি নসাৎ করে দিলেও ৬৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। বক্সের বাইরে থেকে ওলিসের রক্ষণচেরা নিখুঁত অ্যাসিস্টে ডান পায়ের চমৎকার ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই এক গোলেই তিনটি মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুকে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ১৩তম গোল করে তিনি যৌথভাবে স্পর্শ করেন লিওনেল মেসি ও জাস্ট ফন্টেইনকে।
৬৮ মিনিটে সেনেগালের জ্যাকসন জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে রেফারি তা বাতিল করলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ফ্রান্স। এরপর ৭৯ মিনিটে দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই দৃশ্যপট বদলে দেন ব্র্যাডলি বারকোলা। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় (৮২ মিনিটে) আদ্রিয়ান রাবিওতের পাস থেকে মেন্ডির মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-০ করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের (৯০+৫ মিনিট) পঞ্চম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড ঘটান এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির এক শটে সেনেগালের জাল কাঁপিয়ে ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি অলিভিয়ে জিরুকে (৫৭ গোল) ছাড়িয়ে এককভাবে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫৮ গোল) বনে যান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাকে নিয়ে যান ১৪-তে।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে সেনেগালের তরুণ ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান ৩-১ করলেও, তা কেবল ফরাসিদের উদ্যাপনের ব্যবধানই কমিয়েছে, জয়ের আনন্দ নয়।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: