[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

হল্যান্ড-ঝড়ে চূর্ণ ইরাক: ২৮ বছর পর ফিরেই নরওয়ের উড়ন্ত সূচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬ ০৮:০৬ এএম

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা। ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, কেমন হবে ইউরোপের এই পরাশক্তির প্রত্যাবর্তন? সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল এক রাজকীয় ঝড়ে! আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে রইলেন ম্যানচেস্টার সিটির ‘গোলমেশিন’ আর্লিং ব্রাউত হল্যান্ড।

ফক্সবরো স্টেডিয়ামে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ খ্যাত ‘আই’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন জানান দিল নরওয়ে। ম্যাচের নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং হালান্ড; যার বিধ্বংসী জোড়া গোল আর ক্ষিপ্রতা থমকে দিয়েছে ইরাকের মরণপণ লড়াইকে।

বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যখন ম্যাচ শুরু হয়, শক্তির বিচারে নরওয়ে স্পষ্ট ফেভারিট হলেও বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে অঘটনের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইরাক। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন নরওয়ে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ওডেগার্ড ও হল্যান্ড জুটির একের পর এক আগুনের আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ইরাকি রক্ষণভাগ।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঁ-প্রান্ত থেকে ডেভিড মোলার উলফের এক বুলেট গতির ক্রসে চিতা বাঘের মতো পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান হল্যান্ড। বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজের প্রথম ম্যাচেই গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই সুপারস্টার।

তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি এশিয়ান লায়নরা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে ফেরে ইরাক। আমির আল আম্মারির মাপা ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে উঠে এক বুলেট হেডে গোল করেন ইরাকি স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইন। বল ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালে জড়ালে গ্যালারিতে ইরাকি সমর্থকদের উল্লাসে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।

কিন্তু ইরাকের সেই উদ্‌যাপনের আয়ু ছিল মাত্র ৪ মিনিট! ৪৩ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসেন ইরাকি গোলরক্ষক জালাল হাসান। বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে আসা হল্যান্ডের পায়ে লেগে বল সরাসরি আছড়ে পড়ে ইরাকের জালে। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোলের এক অবিশ্বাস্য থ্রিলার দেখে দর্শকরা। প্রথমার্ধ শেষ হয় নরওয়ের ২-১ ব্যবধানের লিড নিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও নরওয়ের সংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে বারবার বাধার মুখে পড়ে তারা। মাঝমাঠে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের দক্ষ পরিচালনায় ক্রমাগত আক্রমণ সচল রাখে নরওয়ে।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আসে নরওয়ের তৃতীয় গোল। একটি নিখুঁত সেট-পিস থেকে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দারুণ গোল করেন ডিফেন্ডার লিও স্কিরি অস্টিগার্ড। এই গোলের পর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১, যা কার্যত ম্যাচ থেকে ইরাককে ছিটকে দেয়। পরবর্তী সময়ে নরওয়ে আরও একটি গোল পাওয়ায় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে শেষ হয়।

পুরো ম্যাচে আক্রমণ, গতি এবং পরিকল্পনার দিক থেকে নরওয়ে ছিল যোজন যোজন এগিয়ে। হল্যান্ডের অবিশ্বাস্য গোলক্ষুধা, ওডেগার্ডের জাদুকরী নেতৃত্ব আর রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা–সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুতেই অন্য দলগুলোকে একটি শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল নরওয়ে। অন্যদিকে, ইরাক পিছিয়ে পড়েও লড়াকু মানসিকতা দেখালেও, শেষ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান পরাশক্তির শক্তির সামনে টিকতে পারেনি।

পারফরম্যান্সের পর ফুটবল দুনিয়া এখন একটাই বার্তা পাচ্ছে–এই নরওয়েকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই!

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর