[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া কেমন দল, পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬ ১৮:০৬ পিএম

আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা আর্জেন্টিনার জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ অস্ট্রিয়া।

এই ম্যাচে ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ইউরোপের এক সময়ের সাড়া জাগানো ফুটবলশক্তি অস্ট্রিয়া দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পাওয়ায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় তাদেরও সুযোগ করে দেবে নকআউট পর্বে।

এক নজরে অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ:

ডাকনাম: ডাস টিম

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ২৪তম

কোচ: রাল্ফ রাংনিক

অধিনায়ক: ডেভিড আলাবা

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: অষ্টমবার

সেরা সাফল্য: তৃতীয় (১৯৫৪)

তারকা খেলোয়াড়: ডেভিড আলাবা (রিয়াল মাদ্রিদ), মার্সেল জাবিৎসার (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), মার্কো আর্নাউতোভিচ (রেডস্টার বেলগ্রেড), কনরাড লাইমার (বায়ার্ন মিউনিখ), রোমানো স্মিড (ভের্ডার ব্রেমেন)।

যেভাবে বিশ্বকাপে এলো অস্ট্রিয়া:

ইউরোপিয়ান বাছাই পর্বে অস্ট্রিয়া ছিল 'এইচ' গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল রোমানিয়া, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, সাইপ্রাস ও সান মারিনো।

বাছাই পর্বে ৬ জয়, ১ ড্র ও ১ হারে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের গ্রুপে প্রথম হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল অস্ট্রিয়া। এই ৮ ম্যাচে তারা ২২ গোল করার বিপরীতে হজম করে মাত্র ৪ গোল।

বাছাই পর্বে অস্ট্রিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেন মার্কো আর্নাউতোভিচ।

যাদের দিকে নজর রাখতে হবে:

অস্ট্রিয়ার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে বড় তারকা অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। রক্ষণভাগে তাদের প্রধান ভরসা রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার দায়িত্বে রয়েছেন মার্সেল জাবিৎসার, যিনি ২০২৪ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিলেন। জর্ডানের বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৯৮তম ম্যাচ খেলেছেন। আক্রমণভাগে আছেন ৩৭ বছর বয়সী মার্কো আর্নাউতোভিচ, যিনি অস্ট্রিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার। জর্ডানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দলের তৃতীয় গোলটি করেন রেডস্টার বেলগেডের এই স্ট্রাইকার।

বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার কনরাড লাইমারের দিকেও নজর রাখতে হবে। এই বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার তার অবিশ্বাস্য ওয়ার্ক রেট এবং বল উইনিং অ্যাবিলিটির কারণে পরিচিত। প্রয়োজনে ফুলব্যাক হিসেবেও রাখতে পারেন কার্যকরী ভূমিকা। এছাড়া অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রোমানো স্মিডের দিকেও আলাদা নজর রাখতে হবে। বুন্দেসলিগার ক্লাব ভের্ডার ব্রেমেনের এই ২৬ বছর বয়সী তারকা জর্ডানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দারুণ এক গোল করে নজর কেড়েছেন।

অস্ট্রিয়ার কোচ: রাল্ফ রাংনিক (গেগেনপ্রেসিংয়ের জনক)

অস্ট্রিয়ার প্রধান কোচ রালফ রাংনিকের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় মাত্র ২৫ বছর বয়সে। সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পরে একজন সফল কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার আক্রমণাত্মক কাউন্টার-প্রেসিং কৌশল, যা 'গেগেনপ্রেসিং' নামে পরিচিত, আধুনিক ফুটবলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ রাংনিকের এই গেগেনপ্রেসিং কৌশল কাজে লাগিয়েই দীর্ঘদিন বাদে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটিকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন।

কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি জার্মানির ভিএফবি স্টূটগার্ট, হ্যানোভার ৯৬, শালকে জিরোফোর, হফেনহেইম এবং আরবি লাইপজিগের মতো ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় কাজ করার পর ২০২২ সালে তিনি অস্ট্রিয়ার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তার অধীনে অস্ট্রিয়া ২০২৪ ইউরোর শেষ ষোলোতে (রাউন্ড অব ১৬) পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল।

অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস:

অস্ট্রিয়া এর আগে সাতবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে। এবারের আগে শেষবার তারা বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯৮ সালে। এছাড়া ১৯৮২ সালের পর দলটি আর কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারেনি।

বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে তাদের প্রথম দুই অংশগ্রহণে। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে, যখন টুর্নামেন্টটি সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতো, তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করে। এরপর ১৯৫৪ বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে। উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই জয় এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসে অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ফ্রিডরিখ কনসিলিয়া, এরিখ ওবারমায়ার, ব্রুনো পেজি এবং হার্বার্ট প্রোহাজকা। তারা প্রত্যেকেই ১১টি করে ম্যাচ খেলেছেন।

বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা এরিখ প্রোপ্সট। তার গোল সংখ্যা ৬টি।

সাম্প্রতিক ফর্ম:

অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপে এসেছে দারুণ ফর্ম সঙ্গী করে। গত বছর নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের পর টানা চার ম্যাচে জিতেছে তারা। এ সময়ে হারিয়েছে ঘানা, দক্ষিণ কোরিয়া, তিউনিসিয়া এবং জর্ডানকে। এর মধ্যে ঘানার বিপক্ষে আছে ৫-১ ব্যবধানের জয়ও।

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম এই দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে। তবে প্রীতি ম্যাচে দুবার আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রিয়া। সেখানে এগিয়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

১৯৮০ সালে ভিয়েনায় প্রথম দেখায় অস্ট্রিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ১০ বছর পর দ্বিতীয় দেখায় অবশ্য ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল খেলা। এছাড়া ১৯৬৬ সালে একটি আনঅফিসিয়াল ফ্রেন্ডলি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল অস্ট্রিয়া।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর