[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

হলান্ডদের ভাইরাল উদযাপন ‘ভাইকিং রো’র মাধ্যমে কী বুঝানো হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ১৭:০৬ পিএম

এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ অব ডেথ মনে করা হচ্ছিল গ্রুপ 'আই'কে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সঙ্গে এই গ্রুপে আছে নরওয়ে এবং সেনেগালের মতো দল।

কঠিন গ্রুপে টানা দুই জয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল নরওয়ে। ভোরে (২৩ জুন) সাদিও মানের সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে নরওয়ে। দলের জয়ের দিনে জোড়া গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই শেষ ৩২–এ জায়গা করে নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে নরওয়ে। সেনেগালের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর নরওয়ের খেলোয়াড়রা মাঠে বসে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করেন তাদের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ উৎসব।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সময় থেকেই ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনটি নরওয়েজিয়ানদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। মূল আসরে আর্লিং হলান্ড ও তার দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর টুর্নামেন্টের আয়োজক শহরগুলোতে হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান সমর্থক জড়ো হচ্ছেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল আসরে ফিরে আসা নরওয়ের জন্য এটি এখন গর্ব ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই উদযাপন।

এই উদযাপনে খেলোয়াড়রা সারিবদ্ধভাবে বসে বা হাঁটু গেড়ে ভাইকিং লংবোট আকৃতির মতো একটি সমন্বিত ফরমেশন তৈরি করে এবং বৈঠা চালিয়ে তা এগিয়ে নেয়ার ভঙ্গি করেন। গত ম্যাচে দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ছিলেন উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি এত জোরে ড্রাম বাজাচ্ছিলেন যে তার তালের শব্দ পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।

এই উদযাপনের সময় সমর্থকেরাও স্টেডিয়ামের মেঝে বা আসনে একসঙ্গে বসে বা হাঁটু গেড়ে ভাইকিংদের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ বাওয়ার ছন্দময় ভঙ্গি অনুকরণ করেন, যা নরওয়ের ফুটবল সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

এই উদযাপন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যখন হাজার হাজার সমর্থক নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে একত্র হয়ে একসাথে এই ‘রো’ পরিবেশন করে। এরপর বোস্টনের ট্রানজিট এসকেলেটরে ওঠার সময়ও ভক্তরা একইভাবে ‘রোয়িং’ করে, এমনকি নরওয়ের পার্লামেন্টেও শৃঙ্খলা ভেঙে আইনপ্রণেতাদের এই উদযাপনে অংশ নিতে দেখা যায়।

‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের মাধ্যমে মূলত নরওয়ের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দলগত একতা ও শক্তির প্রতীক তুলে ধরা হয়। নরওয়ের পূর্বপুরুষ ভাইকিংরা ৮ম থেকে ১১শ শতাব্দী পর্যন্ত সমুদ্রপথে দূরপাল্লার অভিযানের জন্য বিখ্যাত ছিল। প্রাচীনকালে তারা যখন পাল গুটিয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজ নিয়ে তীরের দিকে আসত, তখন যুদ্ধের ঠিক আগমুহূর্তে সবাই মিলে একসঙ্গে প্রচণ্ড শক্তিতে দাঁড় টানত। এই উদযাপনের মাধ্যমে দর্শকরা গ্যালারিতে বসে ঠিক সেই প্রাচীন ভাইকিং যোদ্ধাদের মতো একসঙ্গে দাঁড় টানার ভঙ্গি অনুকরণ করে।

২০১৬ ইউরোতে আইসল্যান্ডের বিখ্যাত ‘ভাইকিং থান্ডার ক্লাপস’-এর মতোই, এই সমন্বিত উদযাপনও খুব দ্রুতই টুর্নামেন্টের অন্যতম পরিচিত ফ্যান কালচার মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর