[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কবে, কীভাবে ও কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ১৭:০৬ পিএম

লিওনেল মেসি ও ফিফা বিশ্বকাপের সম্পর্ক এখন দুই দশকেরও বেশি সময়ের। ২০০৬ সালে কিশোর হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম গোল করার পর থেকে ২০২২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন নতুন রেকর্ড গড়া; সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়ের নাম লিওনেল মেসি।

কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জেতেন মেসি। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন তিনি, যা এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

শুরুটা জার্মানিতে

২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচে ১৯তম জন্মদিনের কয়েক দিন আগে মাঠে নামেন তরুণ মেসি। ম্যাচের শেষ ১৬ মিনিটে সুযোগ পেয়ে কার্লোস তেভেজের পাস থেকে গোল করেন তিনি। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল এবং বিশ্বমঞ্চে তার উত্থানের ঘোষণা।

ব্রাজিল বিশ্বকাপে গোলের বন্যা

২০১০ বিশ্বকাপে কোনো গোল না পেলেও ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন মেসি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে চমৎকার একক নৈপুণ্যে গোল করে আট বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান।

পরের ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থায় থাকা ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে জয়সূচক গোল করেন তিনি।

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে করেন জোড়া গোল। প্রথমে ফিরতি বলে জোরালো শটে জালের ছাদে বল পাঠান, এরপর দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রি-কিকে আবারও প্রতিপক্ষকে হতাশ করেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপে চার গোল করে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

রাশিয়ায় আবারও নাইজেরিয়ার আতঙ্ক

২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। এভার বানেগার লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণ করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মেসি। সেই গোল আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বে উঠতে সাহায্য করে।

কাতারে স্বপ্নপূরণ

২০২২ বিশ্বকাপ ছিল মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়। সৌদি আরবের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও আর্জেন্টিনা হেরে যায়। তবে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মেক্সিকোর বিপক্ষে দূরপাল্লার শটে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে গোল করে দলকে কোয়ার্টার-ফাইনালে তুলেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে পেনাল্টি থেকে গোল করেন। সেমি-ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে জাল খুঁজে নেন।

ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুইবার গোল করেন মেসি। প্রথমে পেনাল্টি থেকে এবং পরে অতিরিক্ত সময়ে ফিরতি বলে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা এবং মেসি পূরণ করেন তার আজীবনের স্বপ্ন।

২০২৬: রেকর্ড ভাঙার বিশ্বকাপ

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু করে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান মেসি। প্রথমে দুর্দান্ত কার্লিং শটে গোল করেন, পরে ফিরতি বলে আরেকটি গোল এবং শেষ দিকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে যান।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে আরও ইতিহাস গড়েন তিনি। প্রথম গোলের মাধ্যমে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। পরে যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল করে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন।

বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা
২০০৬: ১ গোল
২০১০: ০ গোল
২০১৪: ৪ গোল
২০১৮: ১ গোল
২০২২: ৭ গোল
২০২৬: ৫ গোল (এ পর্যন্ত)

মোট: ১৮ গোল

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর