[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

দুইবার লিড নেয়া হাইতিকে হারিয়ে নকআউট পর্বে মরক্কো

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬ ০৯:০৬ এএম

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে বড় জয় দরকার ছিল মরক্কোর। কিন্তু খেলার দশম মিনিটেই আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে অ্যাটলাস লায়নরা। সেই গোল শোধ করলে আবারও এগিয়ে গিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল পুঁচকে হাইতি। কিন্তু প্রাণপণে লড়ে ঠিকই জয় আদায় করে নিয়েছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। এই জয়ে গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে রাউন্ড অব ৩২–এ খেলা নিশ্চিত হয়েছে মরক্কোর।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে মরক্কো। তবে গ্রুপ সি'র আরেক ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল।

ব্রাজিল ও মরক্কো দুই দলই সমান ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় মরক্কোকে দ্বিতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ফলে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ এফের বিজয়ী দল, যেখানে জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।

এই হারে হাইতির বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও এদিন আসরে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে তারা। রোমাঞ্চে ঠাঁসা এই ম্যাচে তারা দুবার এগিয়েও গিয়েছিল। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পুরো ম্যাচজুড়ে মরক্কোকে চাপে রাখে ক্যারিবীয় দলটি এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সমানতালে লড়াই করেছে।

ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় হাইতি। জোসুয়ে কাসিমির দুর্দান্তভাবে বল ধরে রেখে ডান প্রান্তে জ্যাঁ-কেভিন ডুভের্নেকে পাস দেন। তার ক্রস থেকে লেনি জোসেফের চতুর ব্যাকহিল মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।

মরক্কো বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও হাইতির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে, যিনি ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন, অসাধারণ কয়েকটি সেভ করে আফ্রিকান দলটিকে হতাশ করেন।

লেনি জোসেফের সঙ্গে গোল উদযাপন করছেন উইলসন ইসিডোর। ছবি: রয়টার্স

তবে বিরতির ছয় মিনিট আগে মরক্কোর চাপ ফল দেয়। বিলাল এল খান্নুস বিপজ্জনক একটি বল বক্সে পাঠালে প্লাসিদে সেটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। সুযোগ বুঝে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি দুর্দান্ত রিফ্লেক্স দেখিয়ে সমতাসূচক গোল করেন।

কিন্তু হাইতি দ্রুতই আবার এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডুভের্নে আবারও অ্যাসিস্ট করেন। তার পাস থেকে উইলসন ইসিদোর দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে গোল করে সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন।

তবে সেই লিডও বেশিক্ষণ টেকেনি। বিরতির ঠিক আগে সফিয়ান আমরাবাতের পাসে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন হাকিমি। তার কাটব্যাক থেকে সহজেই বল জালে পাঠান ইসমাইল সাইবারি। বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের প্রমাণ দিলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মরক্কোর অবিরাম আক্রমণের সামনে হাইতির প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। ৭৮তম মিনিটে অবশেষে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় মরক্কো। কর্নার থেকে হাইতির দুর্বল ক্লিয়ারেন্স বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমির সামনে এসে পড়লে তিনি কাছ থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি।

যোগ করা সময়ে মরক্কো চতুর্থ গোল করে জয় নিশ্চিত করে, যদিও গোলটি নিয়ে বিতর্ক আছে। হাইতির ডিফেন্ডাররা মনে করেছিলেন বলটি ইতোমধ্যে মাঠের বাইরে চলে গেছে, তাই তারা খেলা থামিয়ে দেন। কিন্তু রাহিমি খেলা চালিয়ে যান এবং ২০ বছর বয়সী গেসিম ইয়াসিনের জন্য বল বাড়িয়ে দেন, যিনি ফাঁকা জালে সহজেই গোল করেন।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ভিএআর পর্যালোচনা চলে। শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে বলটি পুরোপুরি মাঠের বাইরে যায়নি। ফলে গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়।

এই জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে উঠছে মরক্কো। অন্যদিকে, কোনো পয়েন্ট ছাড়াই টুর্নামেন্ট শেষ করলেও হাইতি সবার প্রশংসা কুড়িয়ে বিদায় নিচ্ছে। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল এবং সমীহ আদায় করে নিয়েই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর