[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

যে সমীকরণ মিললেই ‘রাউন্ড অব ৩২’ নিশ্চিত হবে ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬ ২০:০৬ পিএম

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে শেষ বাঁশি বাজার পরও যেন ম্যাচের নাটকীয়তা শেষ হচ্ছিল না। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ইরান ভেবেছিল, তারা শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে। খেলোয়াড়দের উল্লাস, বেঞ্চ থেকে ছুটে আসা সতীর্থদের উদ্‌যাপন সবকিছুই বলে দিচ্ছিল জয় তাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিএআরের একটি সিদ্ধান্ত সেই আনন্দকে হতাশায় বদলে দেয়।

শনিবার (২৭ জুন) গ্রুপ ‘জি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ইরান। ফলে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া হলেও এখনও শেষ ৩২-এ ওঠার আশা টিকে আছে ইরানিদের।

ম্যাচের শুরুটা ছিল ইরানের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় মিশর। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মাহমুদ সাবেরের শট গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় বল জড়িয়ে যায় জালে। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে চাপের মুখে পড়ে যায় ইরান।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তারা। মেহদি তারেমিকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেয় মিশরের রক্ষণভাগ। কিন্তু তারেমির নেয়া স্পটকিক দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবর। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, হয়তো ভাগ্য ইরানের পক্ষে নেই।

কিন্তু হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৪ মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে চমৎকার এক শটে সমতা ফেরান রামিন রেজায়িয়ান। তার গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে ইরান।

এরপর দীর্ঘ সময় দু’দলই সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। মাঝমাঠে লড়াই, ছন্দ হারানো আক্রমণ আর রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ম্যাচ এগোতে থাকে সমতার পথে। ইতিমধ্যে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলা মিশর তুলনামূলক সংযত ফুটবল খেললেও জয় খুঁজছিল ইরান।

সব নাটকীয়তা জমা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্য। যোগ করা সময়ে প্রথমে তারেমির একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর ৯৩তম মিনিটে শোজা খলিলজাদেহ বল জালে পাঠালে পুরো ইরান শিবিরে শুরু হয় উৎসব। সেই গোলই তাদের নকআউটের পথে বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারত।

কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ গঠনের সময় খুব সামান্য ব্যবধানে অফসাইড হয়েছিল। ফলে বাতিল হয়ে যায় গোলটি। মুহূর্তেই উল্লাস বদলে যায় হতাশায়।

এই ড্রয়ে গ্রুপ ‘জি’ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে বেলজিয়াম ও মিশর নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে তিন ম্যাচে তিন ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে ইরান।

তবে ইরানের আশা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর তালিকায় বর্তমানে তারা ছয় নম্বরে রয়েছে। গোল ব্যবধানও তাদের পক্ষে রয়েছে শূন্য (০) অবস্থানে। ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, উরুগুয়ে ও স্কটল্যান্ডের ওপরে থাকা নিশ্চিত হয়েছে তাদের।

এখন ইরানের অপেক্ষা বাকি গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে। শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিতে হলে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর মধ্যে অন্তত আরও একটি দলকে তাদের নিচে থাকতে হবে।

ইরানের জন্য সুখবর হতে পারে কয়েকটি সম্ভাব্য ফলাফল। ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার হার হলে ইরানের পথ সহজ হবে। একইভাবে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে যেকোনো এক দলের হারও ইরানের জন্য অনুকূল ফল। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তানের ম্যাচ ড্র হলে সরাসরি স্বস্তি পাবে ইরান। এমনকি উজবেকিস্তানের কাছে ডিআর কঙ্গো ৮ গোলের কম ব্যবধানে হারলেও ইরানের সম্ভাবনা অটুট থাকবে।

অর্থাৎ সমীকরণ এখনও তাদের বিপক্ষে নয়। কিন্তু নকআউটের টিকিট এখন আর নিজেদের হাতে নেই। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে দলটি মাঠে দাঁড়িয়ে জয় উদ্‌যাপন করছিল, তাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে অন্যদের ফলাফলের জন্য।

সিয়াটলের রাতে ইরান সবচেয়ে বেশি মনে রাখবে হয়তো সেই বাতিল হওয়া গোলটিকেই। কারণ নকআউটের দরজায় প্রায় পৌঁছে গিয়েও তারা ফিরে এসেছে। তবু ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই আশা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গল্পও শেষ হয় না।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর