[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

এককভাবে ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬ ০৭:০৬ এএম

চলমান বিশ্বকাপের আয়োজক ৩ দেশ হলেও মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র; সহ-আয়োজক কানাডা এবং মেক্সিকোর মোট ম্যাচের ৩ গুণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে চলমান এই বিশ্বকাপ চলাবস্থায়ই আরেকটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিলিয়ানো ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ এককভাবে নিজেদের মাটিতে আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন তারা।

এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবার ৩২ থেকে বাড়িয়ে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা করা হয়েছে ৪৮টি। এই দলের সংখ্যা এবার ৬৪-তে উন্নীত করার কথা ভাবছে ফিফা। সেই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি বিবিসির কাছে গিলিয়ানো বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ যদি ৬৪ দলেরও হয়, তা সফলভাবে সামাল দেওয়ার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে যুক্ত দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে উপযুক্ত দেশ আর একটিও নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এখানে আসা ফুটবল–ভক্তদের প্রতিক্রিয়া দেখলেই তা বোঝা যায়। যারা প্রথমবার বা দীর্ঘদিন পর এখানে এসেছেন, তারা দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কতটা অতিথিপরায়ণ।'

অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ অনেক কম হয়েছে জানিয়ে গিলিয়ানো বলেন, ‘আমাদের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো আগে থেকেই তৈরি ছিল। যেখানে অন্য দেশগুলোর হাজার কোটি ডলার খরচ হয়, সেখানে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র কয়েক বিলিয়ন।’

গিলিয়ানোর এই উক্তিতে সরাসরি না হলেও এক যুগের মধ্যে আরও একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করার ইচ্ছার ইঙ্গিত ছিল। তবে তিনি আরও বলেন, ‘২০৩৮ সালের বিড নিয়ে মাতামাতি করার আগে, আমরা চলমান বিশ্বকাপটা নির্বিঘ্নে শেষ করতে চাই।’

২০৩৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার ভেন্যু নির্ধারণ চূড়ান্ত হয়েছে। পরবর্তী বিডিং ২০৩৮ থেকে শুরু হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্বকাপ আয়োজ়ন করতে চায়, সেক্ষেত্রে ২০৩৮-কেই বেছে নিতে হবে তাদের।

বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ গর্ব করলেও এবারের বিশ্বকাপে বেশকিছু সমালোচনা রয়েছে। গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে ১২০টির বেশি দেশের খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও দর্শকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করে। পাশাপাশি টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্রাতিরিক্ত ভ্রমণ খরচ বৃদ্ধির কারণেও তীব্র সমালোচনা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করেও অনেক সমালোচনা হচ্ছে। ইরানকে যেমন ম্যাচ খেলে সঙ্গে সঙ্গেই আবার মেক্সিকোতে ফিরতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের আগে–পরে তাদের থাকার সুযোগ নেই।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর