বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বেই বিদায়, পদত্যাগ করলেন দক্ষিণ কোরিয়া কোচ
বিশ্বকাপে ভরাডুবির দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হং মিয়ুং–বো। গ্রুপ পর্ব থেকে দলের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার ঠিক একদিন পরেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল ইতিবাচকভাবে। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল তারা। তবে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি দলটি। পরবর্তী দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় এশিয়ার এই পরাশক্তিকে।
এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করা চারটি দলের একটি দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র একটি জয়ের বিপরীতে টানা দুই হারের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন গ্রুপ পর্বেই থমকে যায়।
এদিকে, বিশ্বকাপ ফুটবলে দক্ষিণ কোরিয়ার চরম ব্যর্থতার পর ফুঁসে উঠেছে দেশটির সমর্থকরা। দল গঠনে ‘স্বজনপ্রীতি’র অভিযোগ তুলে কোচের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন খোদ দেশটির প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে জাতীয় দলের কোচ হং মিউং-বোর তীব্র সমালোচনা করে দলের এমন ভরাডুবির পেছনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে এশিয়ান দলগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে সব সময়ই আলাদা নজর থাকে। দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলে মুগ্ধতা ছড়ানোর এক সমৃদ্ধ ইতিহাসও আছে তাদের। এবারের বিশ্বকাপেও দলটিকে নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে মাঠের ফুটবলে সেই প্রত্যাশার ন্যূনতম প্রতিফলনও দেখাতে পারেনি এশিয়ান পরাশক্তিরা।
তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েও নকআউটে যেতে না পারায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি লিখেছেন, ‘হঠাৎ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়ে আমি শুধু বিস্মিতই নই, পুরোপুরি হতভম্ব।’
দল গঠনে অনিয়মের দিকে আঙুল তুলে লি আরও লেখেন, ‘‘দল গঠন ও নিয়োগের সিদ্ধান্তই যে শেষ কথা—তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। যখন যোগ্যতার চেয়ে ‘আপন-পর’ বা স্বজনপ্রীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় এবং একজন অযোগ্য মানুষকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, তখন তার পরিণতি যে এমনটাই হবে, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।’’
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা হারে গ্রুপ ‘এ’র তিন নম্বরে থেকে আসর শেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে শেষ ৩২-এ যাওয়ার যে সুযোগ ছিল, তাও হাতছাড়া হয় তাদের।
এর আগে ২০২৪ সালে হং মিউং-বো-কে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পরই কোরিয়ান মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল। তার নিয়োগপ্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ এবং স্বজনপ্রীতিতে ভরা বলে অভিযোগ তোলা হয়, যদিও হং শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
কোচ হংকে বরখাস্ত করার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে একটি গণপিটিশন দাখিল করা হয়। প্রাথমিক পর্যালোচনার জন্য যে পরিমাণ স্বাক্ষরের প্রয়োজন ছিল, তা খুব দ্রুতই পার হয়ে যায়।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন দোকানের সামনে ‘কোচ হংয়ের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা প্ল্যাকার্ড বা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়ার বেশ কিছু ছবি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
জনগণের এই ক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট লি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের নকআউটে কোয়ালিফাই করতে না পারার এই ব্যর্থতা দেশের মানুষকে চরমভাবে হতাশ ও মর্মাহত করেছে। আর এটি পরিষ্কারভাবেই সাংগঠনিক এবং দল গঠনে ভুল সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত পরিণতি।’
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে এর শেষ দেখে ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এই ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ ও পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিচ্ছি। একই সাথে এই ভরাডুবির আসল কারণ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: