বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন সৌদি ফুটবল প্রধান
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াসের আল-মিসেহাল।
সোমবার (২৯ জুন) ভোরে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জাতীয় দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নিচ্ছেন এবং সৌদি ফুটবলে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ করে দিতেই বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সৌদি গেজেট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আল-মিসেহাল বলেন, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে উঠতে না পারা সৌদি ফুটবলের লক্ষ্য ও সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ব্যর্থতার জন্য তিনি সৌদি সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান এবং বলেন, জবাবদিহিতার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী খুব শিগগিরই নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে বিদায়ী সভাপতি হিসেবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সৌদি ফুটবল আরও এগিয়ে যাবে। ভবিষ্যতেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
গত সাত বছর ধরে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন আল-মিসেহাল। তার নেতৃত্বেই ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, ঘরোয়া লিগের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়।
বিশেষ করে সৌদি প্রো লিগে বিশ্বের শীর্ষ তারকা ফুটবলারদের আনার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার জুনিয়রের মতো তারকাদের দলে ভেড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সৌদি ক্লাবগুলো। লক্ষ্য ছিল দেশের ফুটবলের মান বাড়ানো এবং জাতীয় দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
তবে সেই বিনিয়োগের প্রতিফলন বিশ্বকাপে পাওয়া যায়নি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দারুণ সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল সৌদি আরবকে। চার বছর পরও সেই হতাশার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
এবারের বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সম্ভাবনা জাগিয়েছিল গ্রিন ফ্যালকন্স। দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হারের পরও শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারাতে পারলেই নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু গোলশূন্য ড্র হওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিন ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে চতুর্থ স্থানেই শেষ করে সৌদি আরব।
এই ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারল না সৌদি আরব। দেশটির একমাত্র নকআউট পর্বে ওঠার সাফল্য এখনো ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ, যা ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ।
বিশ্বকাপের মাত্র দুই মাস আগে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। হার্ভে রেনারের পরিবর্তে গ্রিক কোচ জর্জিওস ডনিসকে দায়িত্ব দেয়ার পর দল প্রত্যাশিত ছন্দে ফিরতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন ইয়াসের আল-মিসেহাল। তার পদত্যাগের মাধ্যমে সৌদি ফুটবলে নতুন নেতৃত্বের পথ খুলে গেল, আর সেই নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিপুল বিনিয়োগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যে রূপ দেয়া।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: