[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামলেই পূরণ হবে ভোজিনিয়ার যে স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ ১৭:০৬ পিএম

বিশ্বকাপ শুরুর আগে তার নাম খুব কম ফুটবলপ্রেমীই জানতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিলেন অনেকটাই আড়ালে। কিন্তু মাত্র কয়েকটি ম্যাচই বদলে দিয়েছে সবকিছু। এখন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া শুধু নিজের দেশের নয়, পুরো বিশ্বকাপেরই অন্যতম আলোচিত নাম।

মাত্র ছয় লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে রীতিমতো ইতিহাস গড়েছে। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। আর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের অন্যতম বড় নায়ক ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নজর কাড়েন তিনি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলের জন্য মূল্যবান একটি পয়েন্ট এনে দেন। সেই ম্যাচের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসে তার নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেড়েছে জনপ্রিয়তা। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা এখন ১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে।

তবে ভোজিনিয়ার গল্পে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায়টি সামনে আসছে নকআউট পর্বে। আগামী ৪ জুলাই শেষ ৩২-এর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। আর এই ম্যাচ ঘিরেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেয়া ভোজিনিয়ার একটি মন্তব্য।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা হলো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা। বিশেষ করে, নিজের চোখে দেখা সর্বকালের সেরা ফুটবলার বলে যাকে মনে করেন, সেই লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে নামতে চান তিনি।

ভোজিনিয়া বলেছিলেন, আমার কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। আমি তার বিপক্ষে খেলতে চাই। সুযোগ হলে তার জার্সিটাও সংগ্রহ করতে চাই।

পরে একই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারলে সেটা হবে দারুণ অভিজ্ঞতা। মেসির বিপক্ষে মাঠে নামা আমার জন্য স্বপ্নের মতো।

বিশ্বকাপের শুরুতে এই মন্তব্যকে অনেকে হয়তো কেবল একজন ফুটবলারের স্বপ্ন হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিজের দলকে নকআউট পর্বে তুলে এনে এখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

ভোজিনিয়ার জীবনের সঙ্গে আর্জেন্টিনার আরেকটি মজার যোগসূত্রও রয়েছে। তার অফিসিয়াল নাম জোসিমার হলেও, জন্মের সময় তার বাবা ছেলের নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘ভালদানো’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি হোর্হে ভালদানোর প্রতি ভালোবাসা থেকেই সেই নাম বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তবে স্থানীয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নামটি অনুমোদন না করায় শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।

নাম না হলেও ভাগ্য যেন ভোজিনিয়াকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছেই নিয়ে এসেছে। ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্রের গোলরক্ষক থেকে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নায়ক হয়ে ওঠা এই ফুটবলারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আর সেখানে তার প্রতিপক্ষ সেই দল, যার বিপক্ষে খেলার স্বপ্ন তিনি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রকাশ করেছিলেন। এখন দেখার অপেক্ষা, স্বপ্নের সেই ম্যাচে ভোজিনিয়া আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিতে পারেন কি না।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর