বিশ্বকাপের উত্তাপে পর্দার আড়ালে ইউরোপে ট্রান্সফারের ঝড়, রয়েছেন রোনালদিনহোও
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকা দলগুলোকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ঠিক তখনই ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের ব্যস্ততা। বিশ্বকাপের আলোচনায় অনেক বড় ট্রান্সফার খবরই আড়ালে পড়ে গেলেও ইউরোপের বিভিন্ন লিগে এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলবদল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন নিজেদের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে অলিম্পিয়াকোস থেকে ২৬ বছর বয়সী রাইট-ব্যাক ওভেন কস্টিনহাকে দলে ভিড়িয়েছে। প্রায় ১১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে হওয়া এই ট্রান্সফারকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছে ক্লাবটি।
এদিকে গোলরক্ষক সংকটের বিকল্প সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ মার্টিন দুব্রাভকাকে দলে নিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। নিউক্যাসেল ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই ৩৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক ফ্রি ট্রান্সফারে লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন। মূলত ব্যাকআপ গোলরক্ষকের ভূমিকাতেই তাকে দেখা যাবে।
স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কায় ব্যক্তিগতভাবে ভালো মৌসুম কাটালেও দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে পারেননি ভেদাত মুরিচি। শেষ পর্যন্ত পুরোনো ঠিকানায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই কসোভান স্ট্রাইকার। ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আবারও যোগ দিয়েছেন তুরস্কের ফেনেরবাচেতে।
গ্রীষ্মের সবচেয়ে আলোচিত সাইনিংগুলোর একটি করেছে বায়ার লেভারকুসেন। পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-২১ দলের উইঙ্গার আফনসো মোরেইরাকে প্রায় ৩৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউরোয় দলে টেনেছে জার্মান ক্লাবটি। তরুণ এই ফুটবলারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই বিনিয়োগ করেছে লেভারকুসেন।
ফরাসি ক্লাব স্ত্রাসবুরেও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দলে নিয়েছে ২০ বছর বয়সী পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ডিওগো সুসাকে। ভিটোরিয়া গিমারায়েস থেকে আসা এই তরুণকে ঘিরে ক্লাবটির প্রত্যাশাও অনেক।
বার্সেলোনার গোলরক্ষক ইনাকি পেনা এবার নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। তিন বছরের চুক্তিতে স্পেন ছেড়ে গ্রিসের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পানাথিনাইকোসে যোগ দিয়েছেন তিনি। নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফরাসি ক্লাব লঁস নিজেদের মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা যোগ করতে দলে ভিড়িয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক মিডফিল্ডার মাইকেল কুইসান্সকে। চার বছরের চুক্তিতে এই ফুটবলারের আগমন ক্লাবটির মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নটিংহ্যাম ফরেস্টে প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়া ডিফেন্ডার গিউলিয়ান বিয়ানকোন নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বেলজিয়ামের ক্লাব অ্যান্ডারলেখ্টকে। নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়ার আশাতেই এই সিদ্ধান্ত তার।
অন্যদিকে পোল্যান্ডে সময় কাটানোর পর ইংল্যান্ডে ফিরেছেন স্যাম গ্রিনউড। আর্সেনাল একাডেমির সাবেক এই মিডফিল্ডার এবার ব্রিস্টল সিটির হয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।
আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের গল্পও আছে এবারের দলবদলে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সার্জিও ক্যানালেস দীর্ঘ ১৪ বছর পর শৈশবের ক্লাব রেসিং সান্তান্দারে ফিরেছেন। একইভাবে পর্তুগিজ স্ট্রাইকার আন্দ্রে সিলভাও ফিরে গেছেন নিজের ক্যারিয়ারের শুরু করা ক্লাব এফসি পোর্তোতে।
বিশ্বকাপ চলাকালেই ভবিষ্যৎ ঠিক করে ফেলেছেন নেদারল্যান্ডসের স্ট্রাইকার ওয়াউট ভেগহোর্স্ট। টুর্নামেন্ট শেষে তিনি যোগ দেবেন ডাচ ক্লাব এফসি টোয়েন্টেতে।
সবশেষে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী খবরটি এসেছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোকে ঘিরে। দীর্ঘদিন আগেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই সাবেক তারকা ৪৬ বছর বয়সে ইতালির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব রাভেনায় নতুন ভূমিকায় ফিরেছেন। যদিও মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ক্লাবের নতুন দায়িত্বে তার এই প্রত্যাবর্তন ইতোমধ্যেই ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের উত্তেজনার কারণে এসব দলবদলের অনেক খবরই বড় শিরোনাম হতে পারেনি। তবে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের নতুন মৌসুম সামনে রেখে এসব সাইনিং যে আগামী মৌসুমের প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: