৪৪ বছরের রেকর্ডের পরিসমাপ্তি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ‘টাইব্রেকার বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে পরিচিত জার্মানি। তবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘ ৪৪ বছরের অপরাজেয় রেকর্ডের অবসান ঘটাল প্যারাগুয়ে। ডালাসে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ এর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জার্মানদের টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় নাম লিখিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি।
প্যারাগুয়ের কাছে এই পরাজয়টি বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানির জন্য এক ঐতিহাসিক বিপর্যয় হিশেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, ১৯৮২ সালের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের পর থেকে জার্মানি বিশ্বকাপ ফুটবলে পেনাল্টি শ্যুটআউটে ছিল এক অপরাজেয় নাম। এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে খেলা তাদের চারটি টাইব্রেকারের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছিল জার্মানরা।
১৯৮২ সালের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে তাদের এই অপরাজেয় জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো, ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড এবং ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তারা পেনাল্টি শ্যুটআউটে বিজয়ী হয়েছিল। পঞ্চম টাইব্রেকার লড়াইয়ে এসেই দীর্ঘ ৪৪ বছরের সেই গৌরবময় রেকর্ডটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
অন্যদিকে, জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ে বজায় রাখল বিশ্বকাপের টাইব্রেকারে নিজেদের শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে একমাত্র পেনাল্টি শ্যুটআউটটিতে জয়ী হয়ে তারা প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। এবারের জয়টি তাদের সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত করল নতুন এক পালক।
ম্যাচের ৪২ মিনিট মাতিয়াস গালারজার নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হুলিও এনসিসো। পিছিয়ে পড়া জার্মানি দ্বিতীয়ার্ধে গোলেড় মরিয়া হয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায়। অবশেষে ৫৪ মিনিটে প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে কাই হাভার্টজ সমতাসূচক গোলটি করেন। এরপর নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় খেলা গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সেখানেও ছিল চরম নাটকীয়তা।
শুরুতেই জার্মানির কাই হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের শট ঠেকিয়ে প্যারাগুয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। কিন্তু চাপে পড়ে প্যারাগুয়ের সানাব্রিয়া ও বালবুয়েনা নিজেদের চতুর্থ ও পঞ্চম শট মিস করলে ম্যাচ গড়ায় ‘সাডেন ডেথ’-এ। জার্মানির জোনাথন তাহ শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করলে সুযোগ পায় প্যারাগুয়ে। দলের হয়ে শেষ শটটি থেকে গোল করে প্যারাগুয়ের কানালে মানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে জয় নিশ্চিত করেন।
ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় ওঠা প্যারাগুয়ে এখন বিশ্বকাপের অন্যতম চমক। অন্যদিকে, ২০১৮ ও ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও নকআউট পর্ব থেকে জার্মানির এমন করুণ বিদায় জার্মান ফুটবলের বর্তমান সংকটকে আরও প্রকট করে তুলল।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: