চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় করায় প্যারাগুয়েতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে নাটকীয় লড়াইয়ে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠে ইতিহাস গড়েছে প্যারাগুয়ে।
নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময় এবং শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউট তিন পর্বের উত্তেজনা শেষে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি জয় নিশ্চিত করলে দেশজুড়ে শুরু হয় উল্লাস। এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদ্যাপনে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া ৩০ জুন (মঙ্গলবার) সারা দেশে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন।
ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো হিল। পুরো ম্যাচজুড়ে জার্মানির ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ে ৫৪ মিনিটে কাই হাভার্টজের গোল ঠেকাতে না পারলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী পেনাল্টি শুটআউটে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান। প্রথমেই হাভার্টজের শট রুখে দিয়ে জার্মানিকে চাপে ফেলেন তিনি। পরে নিক ভল্টেমাদের শটও আটকে দেন হিল, যা প্যারাগুয়ের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
পরিসংখ্যানেও ছিল জার্মানির স্পষ্ট আধিপত্য। পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে ইউরোপের দলটি এগিয়ে ছিল। জার্মানি মোট ২১টি শট নেয়, বিপরীতে প্যারাগুয়ের শট ছিল মাত্র সাতটি। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়।
অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে জার্মানি জয়সূচক গোল পেয়েছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে তৈরি হওয়া আক্রমণে জোনাথান টাহের জন্য বল তৈরি করার সময় জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো হিলকে বাধা দিয়েছিলেন। সেই কারণেই গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ কর্মকর্তা।
পেনাল্টি শুটআউটেও ছিল রোমাঞ্চ। একপর্যায়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল প্যারাগুয়ে। তবে আন্তোনিনো সানাব্রিয়া ও ফাবিয়ান বালবুয়েনা নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় লড়াই গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানে জার্মানির জোনাথান টাহের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে প্যারাগুয়ের হয়ে হোসে কানালে জয়সূচক কিক থেকে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। আগামী ৪ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স অথবা সুইডেন। তবে তার আগেই জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করে বিশ্বকাপে নিজেদের অন্যতম সেরা অর্জন উদ্যাপনে মেতে উঠেছে পুরো প্যারাগুয়ে। জাতীয় ছুটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহাসিক সাফল্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবেও উদ্যাপন করা হচ্ছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: