ব্রাজিল ভক্তদের জন্য অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান, ফাইনালে অনেক এগিয়ে আর্জেন্টিনা
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দ্বৈরথ বহু পুরোনো। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার ধারাবাহিকতায় গত দুই দশকের বেশি সময়ে ব্রাজিলকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে আর্জেন্টিনা।
২০০২ সালে ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত হিসাব করলে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা মিলিয়ে আর্জেন্টিনা খেলেছে মোট ৯টি ফাইনাল। বিপরীতে ব্রাজিলের ফাইনাল খেলার সংখ্যা মাত্র ৪টি। অর্থাৎ, এই সময়ে ব্রাজিলের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে দুই দলের ব্যবধান আরও স্পষ্ট। গত ২৪ বছরে আর্জেন্টিনা তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা জিততে না পারলেও ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে, ২০০২ সালে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্রাজিল আর ফাইনালের মঞ্চে ফিরতে পারেনি। এই সময়ে বিশ্বকাপে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের সেরা সাফল্য সেমিফাইনাল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।
কোপা আমেরিকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার আধিপত্য স্পষ্ট। ২০০৪, ২০০৭, ২০১৫, ২০১৬, ২০২১ ও ২০২৪—এই ছয় আসরে ফাইনাল খেলেছে তারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২১ সালে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ট্রফিখরা কাটায় আর্জেন্টিনা। এরপর ২০২৪ সালেও শিরোপা ধরে রেখে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করে তারা।
একই সময়ে ব্রাজিল কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে মাত্র চারবার। ফলে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা মিলিয়ে গত ২৪ বছরে বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার ধারাবাহিকতায় আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ব্রাজিল।
সাম্প্রতিক ১২ বছরের হিসাবেও দুই দলের পার্থক্য বেশ বড়। এই সময়ে আর্জেন্টিনা খেলেছে সাতটি বড় আন্তর্জাতিক ফাইনাল—তিনটি বিশ্বকাপ ও চারটি কোপা আমেরিকার ফাইনাল। বিপরীতে ব্রাজিলের ফাইনালে ওঠার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্বকাপের মঞ্চে তো তারা একবারও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিতে পারেনি।
সব মিলিয়ে ঐতিহ্য ও বিশ্বকাপ শিরোপার সংখ্যায় ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে আর্জেন্টিনাই স্পষ্টভাবে এগিয়ে। বিশেষ করে ফাইনালে নিয়মিত উপস্থিতিই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সাম্প্রতিক সাফল্যের পার্থক্য সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: