গোল্ডেন বল জিতেও পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে রদ্রি ১৮তম!
বিশ্বকাপ জিতে স্পেন যখন উদ্যাপনে ব্যস্ত, তখনই টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি এই পুরস্কার জিতলেও স্কাই স্পোর্টসের পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপের সেরা দশেও জায়গা পাননি তিনি। সেখানে তার অবস্থান ১৮তম।
বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যে রদ্রির অবদান অবশ্য অনস্বীকার্য। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ, খেলার গতি নির্ধারণ, আক্রমণ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর বিশ্বকাপেও স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন এই মিডফিল্ডার।
পরিসংখ্যানেও রদ্রির প্রভাব স্পষ্ট। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি বল স্পর্শ করেছেন তিনি। ফাইনাল থার্ডে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন দ্বিতীয় এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকেও ছিলেন সেরা ১৫ জনের মধ্যে। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ট্যাকল করা খেলোয়াড়ও ছিলেন রদ্রি। বল পুনরুদ্ধার ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণেও ছিলেন সেরাদের একজন।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে রদ্রির গোল্ডেন বল জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। স্কাই স্পোর্টসের পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপের সেরা তিন পারফর্মার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহ্যাম। রদ্রির অবস্থান সেখানে ১৮তম। এমনকি স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যেও সামগ্রিক রেটিংয়ে তিনি ছিলেন সপ্তম।
৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের বিশ্লেষণেও রদ্রির চেয়ে এগিয়ে ছিলেন মেসি ও এমবাপ্পে। রদ্রি ১৩টি বিভাগে সেরা দশে থাকলেও মেসি ও এমবাপ্পে ছিলেন ১৮টি করে বিভাগে। গোল, অ্যাসিস্ট, বড় সুযোগ তৈরি ও থ্রু বলের মতো আক্রমণাত্মক সূচকে দুই তারকাই রদ্রির চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
পাওয়ার র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপের সেরা একক পারফরম্যান্সও ছিল মেসির। উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিক সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিবেচনায় মেসি কিংবা এমবাপ্পে গোল্ডেন বলের আরও জোরালো দাবিদার ছিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।
এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে—রদ্রি কি সত্যিই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছেন, নাকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে পেয়েছেন এই স্বীকৃতি? সমালোচকদের মতে, নেতৃত্বের যুক্তিও এক্ষেত্রে খুব শক্তিশালী নয়। কারণ মেসি, এমবাপ্পে ও বেলিংহ্যামও নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়াটাই হয়তো রদ্রির পক্ষে সবচেয়ে বড় সুবিধা হয়েছে।
এদিকে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারেও ছিল চমক। বিশ্বকাপের আগে ফেভারিট হিসেবে আলোচনায় থাকা লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে এই পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের আরেক তরুণ তারকা পাউ কুবারসি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সী কুবারসি স্পেনের রক্ষণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করে স্পেন। ২১ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাস, ক্লিয়ারেন্স ও বল পুনরুদ্ধারের মতো বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিলেন তিনি।
গোলরক্ষকদের মধ্যে গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন স্পেনের উনাই সিমন। আট ম্যাচে সাতটি ক্লিন শিট রেখে দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। যদিও সেভের সংখ্যায় সবার ওপরে ছিলেন না সিমন। তার ১০টি সেভের বিপরীতে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ করেছিলেন ২০টি। তবে প্রত্যাশিত গোলের তুলনায় গোল হজমের পরিসংখ্যানে সিমন ছিলেন সেরাদের একজন। পাশাপাশি বক্সের বাইরে এসে আক্রমণ প্রতিহত করার দক্ষতাতেও নজর কেড়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারেও দাপট দেখিয়েছে স্পেন। তবে রদ্রির গোল্ডেন বল জয় নিয়ে বিতর্ক থামেনি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম প্রধান কারিগর হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে মেসি ও এমবাপ্পে আরও বেশি প্রভাব ফেলেছেন—এমন মতই এখন আলোচনায়।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: