ব্রাজিল তারকাকে দলে ভিড়িয়ে তদন্তের মুখে ইন্টার মায়ামি
ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামি। খেলোয়াড় নিবন্ধনসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ বা ‘টেম্পারিং’-এর অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এমএলএস কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার ৩৪ বছর বয়সী ক্যাসেমিরোকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইন্টার মায়ামি। গত মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে তার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এমএলএস মৌসুমের শেষ পর্যন্ত মায়ামির হয়ে খেলবেন ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে ক্যাসেমিরোকে দলে নেওয়ার ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই এমএলএস এক বিবৃতিতে জানায়, খেলোয়াড়টির সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।
ক্যাসেমিরোকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ডিসকভারি প্রায়োরিটি’ নিয়ে ইন্টার মায়ামি ও এলএ গ্যালাক্সির মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানিয়েছে এমএলএস। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেই সমঝোতার শর্ত প্রকাশ করা হবে না।
মূলত এমএলএসের ‘ডিসকভারি রাইটস’ ব্যবস্থাই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে কোনো খেলোয়াড় এমএলএসে যোগ দিতে চাইলে আগে থেকে তালিকাভুক্ত ক্লাবটি তাকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়। প্রতিটি ক্লাব সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড়কে তাদের ডিসকভারি তালিকায় রাখতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকায় পরিবর্তনও আনা যায়।
ক্যাসেমিরোর ক্ষেত্রে প্রথম অধিকার ছিল এলএ গ্যালাক্সির। তবে ইন্টার মায়ামির দাবি, আলোচনার মাধ্যমে তারা এলএ গ্যালাক্সির কাছ থেকে সেই অধিকার কিনে নিয়েছে। এলএ গ্যালাক্সিও দুই ক্লাবের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এমএলএসের টেম্পারিং তদন্ত শেষ হওয়ার পরই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্যাসেমিরো জানিয়েছিলেন, ২০২৬-২৭ মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়বেন তিনি। পরে দুই পক্ষের সমঝোতায় তার চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
২০২২ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন ক্যাসেমিরো। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে পাঁচবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছেন তিনি। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপেও ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে নিজের লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেছেন ক্যাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে জয়ের ক্ষুধা। প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করার ইচ্ছাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমার বিশ্বাস, প্রতিটি ফুটবলারের মধ্যেই এই মানসিকতা থাকা উচিত।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে ক্যাসেমিরো ১৬০ ম্যাচে ২৬টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১৪টি। ক্লাবটির হয়ে একটি এফএ কাপ ও একটি ইএফএল কাপও জিতেছেন তিনি।
তবে খেলোয়াড় দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে তদন্তের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে জুভেন্টাস থেকে ফরাসি মিডফিল্ডার ব্লেইস মাতুইদিকে দলে নেওয়ার সময়ও এমএলএসের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ক্লাবটিকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।
সেবার এমএলএসের অভিযোগ ছিল, মাতুইদিকে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনজনের পরিবর্তে কার্যত চারজন ‘ডিজাইনেটেড প্লেয়ার’ ছিল ইন্টার মায়ামির দলে। এমএলএসে এই শ্রেণির খেলোয়াড়দের বেতন লিগের নির্ধারিত স্যালারি ক্যাপের বাইরে গণনা করা হয়।
‘ডিজাইনেটেড প্লেয়ার’ বিধানটি ফুটবল বিশ্বে ‘বেকহ্যাম রুল’ নামেও পরিচিত। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে যোগ দেওয়ার পর তারকা ফুটবলারদের এমএলএসে আনার সুযোগ তৈরি করতে এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল।
এখন দেখার বিষয়, ক্যাসেমিরোকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইন্টার মায়ামি কোনো নিয়ম ভেঙেছে কি না। তদন্ত শেষে এমএলএসের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: