[email protected] রবিবার, ২৬শে জুলাই ২০২৬
১০ই শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসির পূর্বপুরুষের ব্রাজিল-যোগ, নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০:০৭ এএম

লিওনেল মেসির শিকড় নিয়ে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার পারিবারিক বংশতালিকা অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, তার মাতৃসূত্রের এক প্রপিতামহের সঙ্গে ব্রাজিলের সরাসরি সম্পর্ক ছিল।

ইতালির ইতিহাসবিদ ও পেশায় ব্যাংকার ফিওরেঞ্জো সান্তিনির দীর্ঘ গবেষণায় মেসির পারিবারিক বংশপরিচয়ের এই তথ্য সামনে এসেছে। মেসির পুরো নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি। আর তার পারিবারিক পদবি ‘কুচ্চিত্তিনি’র সূত্র ধরেই ব্রাজিলের সঙ্গে মেসির পরিবারের সম্পর্কের সন্ধান পান সান্তিনি।

গবেষণায় জানা যায়, মেসির মাতৃসূত্রের পূর্বপুরুষ রানিয়েরো কোচেত্তিনি ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহরের বাসিন্দা ছিলেন। স্ত্রী রোজা রিক্কেজ্জা ও দুই সন্তান জুলিয়া ও ফ্রাঞ্চেস্কোকে নিয়ে তিনি পরে ব্রাজিলের উদ্দেশে পাড়ি জমান। ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তারা সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। সাও পাওলো রাজ্যের ইমিগ্রেশন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নথিতেও এর প্রমাণ রয়েছে।

ব্রাজিলে যাওয়ার পর সরকারি নথিতে রানিয়েরো কোচেত্তিনির নাম পরিবর্তিত হয়ে রামিয়েরো কনচেত্তিনি হয়। সেখানে তিনি কৃষক হিসেবে কাজ করতেন। সাও পাওলোর রিনকাও এলাকায় একটি খামারে কাজ করার সময় তার পরিবারে আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়।

গবেষক সান্তিনির দাবি, মেসির পারিবারিক পদবি ‘কুচ্চিত্তিনি’র সূত্রও ব্রাজিলেই তৈরি হয়। রামিয়েরোর ছেলে আরদেরিগোর নাম ব্রাজিলে গিয়ে পরিবর্তিত হয়ে ফেদেরিকো হয়। একইভাবে কোচেত্তিনি পদবিও পরিবর্তিত হয়ে কুচ্চিত্তিনি হয়ে যায়। সান্তিনির মতে, এই ফেদেরিকোই ছিলেন মেসির মাতৃসূত্রের প্রপিতামহ।

ফেদেরিকোর জন্মের এক বছর পর তার পরিবার ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় চলে যায়। ১৯০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা আর্জেন্টিনার রোজারিও অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে সেখানেই জন্ম নেন মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি, মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিওনেল মেসি।

অর্থাৎ, মেসির মাতৃসূত্রের প্রপিতামহ ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় যাওয়ার প্রায় ৮২ বছর পর জন্ম হয় বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবল কিংবদন্তির।

সান্তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মেসির মাতৃসূত্রের বংশপরিচয় নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। ইতালিতে ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবির কোনো অস্তিত্ব না পাওয়ায় বিষয়টি তার কৌতূহল বাড়ায়। পরে মেসির মায়ের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া নথির সূত্র ধরে তিনি জানতে পারেন, ব্রাজিলে পৌঁছানোর পরই পরিবারের নাম ও পদবিতে পরিবর্তন এসেছিল।

এই গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্বও দেয়।

মেসির ব্রাজিল-যোগের এই তথ্য প্রকাশের পর দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা রসিকতা। কেউ কেউ মেসিকে ব্রাজিলের জার্সি পরানো ছবি প্রকাশ করছেন। আবার অনেকে মজা করে বলছেন, মেসির পূর্বপুরুষের এই সম্পর্ক জানা গেলে হয়তো আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলও তাকে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে দাবি করতে পারে!

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর